ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ জুলাই ২০২২ | ২০ আষাঢ় ১৪২৯ | ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

জনকল্যাণে আসছে না সাতক্ষীরা সরকারি মোরগ-মুরগি প্রজনন কেন্দ্র

জনকল্যাণে আসছে না সাতক্ষীরা সরকারি মোরগ-মুরগি প্রজনন কেন্দ্র

ছবি: গ্লোবাল টিভি

রাহাত রাজা, সাতক্ষীরা: নিরাপদ প্রাণি পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও জনসাধারণের কল্যাণে সাতক্ষীরা সরকারি মোরগ-মুরগি খামারটি কোন কাজে আসছে না। খামারটির এখন বেহাল দশা। মুরগি পালনের ৪টি শেডের মধ্যে ৩টি পরিত্যক্ত। ভবনগুলোও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কার নেই। রয়েছে জনবল সংকট।

সরেজমিনে দেখা যায়, বছরের পর বছর পড়ে থেকে মরিচা ধরে কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে ক্রয়কৃত বাচ্চা ফোটানো মেশিনটি এখন নষ্ট হয়ে অকেজ অবস্থায় আছে। কালেভাদ্রে দুই-এক বার বাইরে থেকে মুরগির বাচ্চা নিয়ে এসে খামারে পালন করা হয়ে থাকে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এর কার্যক্রম। ফলে দেশের সর্ব দক্ষিণের জনপদ সাতক্ষীরার হতদ্ররিদ্র মানুষের ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি। বছরের পর বছর সরকারের শুধু অর্থ অপচয় হচ্ছে।

জানা গেছে, দেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা সাতক্ষীরায় নিরাপদ প্রাণিপুষ্টির চাহিদা পূরণ ও দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য ১৯৮৫ সালে শহরের জেলা পরিষদ অফিস সংলগ্ন রসুলপুর এলাকায় তিন একর জমির উপর গড়ে ওঠে সাতক্ষীরা সরকারি হাঁস-মুরগি প্রজনন ও পালন কেন্দ্র। কিন্তু এই খামারের এখন বেহাল দশা। প্রশাসনিক ভবনের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। মোরগ ও মুরগি পালনের মোট ৪টি শেডের একটি টিন শেড বাদে নতুন তিনটি শেডের দরজাগুলো ভাঙা। এসব শেডের তিনটিই এখন পরিত্যক্ত। বাচ্চা উৎপাদনের হ্যাচারি ভবনটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় তালাবদ্ধ। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো অত্যাধুনিক ইনকিউবেটরও নষ্ট। ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানে এখন ময়লা আর মশার উপদ্রব।

খামারের জন্য বরাদ্দ করা জনবল ৭ জন। এর মধ্যে পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট অফিসার (নন ক্যাডার) এক জন, পোল্ট্রি টেকনিশিয়ান, খামার ব্যবস্থাপক ও হাঁস-মুরগী উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ মোট ৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। তাই তেমন কোন কার্যক্রম নেই।

যশোর সরকারি মুরগি প্রজনন উন্নয়ন খামারের আওতায় পরিচালিত হয়ে আসছে সাতক্ষীরার সরকারি এই হাঁস-মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি। এলাকাবসীর অভিযোগ, কালেভাদ্রে বছরে এখানে দুই-একবার মুরগির বাচ্চা নিয়ে এসে লালন-পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এসব ফাউমি ও সোনালী (লেয়ার) ডিম পাড়া জাতের মুরগী তাদের পছন্দের লোকজন ও খামারিদের কাছে বিক্রি করে থাকেন।

খামারের পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট অফিসার কে এম সাদ্দাম হোসেন জানান, লোকবল সংকট, সংস্কার আর পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠার এক বছরের মাথায় খামারের হ্যাচারিতে প্রায় দুই লক্ষ টাকা খরচ করে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য একটি ইনকেবিউটর মেশিন বসানো হয়। কিন্তু সেখানে একদিনের জন্যও কোন ডিম থেকে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করেননি পূর্ববর্তী কর্মকর্তরা।

তিনি বলেন, আমি যোগদান করার পরে দেখলাম, খামারটির বেহাল দশা। কার্যক্রম না থাকায় হ্যাচারি ভবনটি একটি পরিত্যক্ত গোডাউনে পরিণত হয়েছে। পাওয়ার লাইন পরিচালনার জন্য জেনেরটর নষ্ট হয়ে অচল অবস্থায় আছে। প্যারেন্টস্ মুরগি না থাকায় এখানে ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরে ২০ হাজার মুরগী উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪২০টি ফাউমি ও সোনালী জাতের মুরগী উৎপাদন করে তা খামারিদের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। লোকবল ও অর্থ বরাদ্দ পেলে যথাযথভাবে কাজ করা সম্ভব।

এএইচ