ঢাকা, শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২ | ৮ মাঘ ১৪২৮ | ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার না হলে আইনি ব্যবস্থা নেবে ক্যাব

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার না হলে আইনি ব্যবস্থা নেবে ক্যাব

ছবি সংগৃহীত

কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলেছে, আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে এবং জ্বালানি বিভাগও আইনের বিপরীতে গিয়ে সেই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

সোমবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করে ক্যাব। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি প্রজ্ঞাপন বাতিল বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ক্যাব বলছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আমলাতান্ত্রিক, রাজনৈতিক নয়। এখানে ব্যবসায়িক দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সরকারের কাজ ব্যবসা করা নয়। তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের সঙ্গে পরিবহনভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তও বাতিলের দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি। অন্যথায় আইনের আশ্রয় নেয়া হবে বলে জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাজারকে অস্থির করে তুলবে, মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। এমনিতেই করোনার কারণে মানুষের আয় কমে গেছে।

সংগঠনটির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যখন কেউ দাবির কথা শোনে না, তখন একমাত্র পথ হচ্ছে আইনের আশ্রয় নেয়া। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা বিপিসির কাছ থেকে নিয়েছে। সেই টাকা দিয়ে আলাদা তহবিল করা হোক। আর তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা হোক। বাসভাড়া ২৭ ও লঞ্চভাড়া ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। মালিকদের চাপের মুখে সরকার নতিস্বীকার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জ্বালানি বিভাগে প্রেরণ এবং জ্বালানি বিভাগ কর্তৃক সে মূল্যবৃদ্ধি করা বিইআরসি আইনের পরিপন্থী। এই বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অবহিত করা হলে এলপিজির মতো ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠানো হতো। কিন্তু বাস্তবে বিপিসি এবং জ্বালানি বিভাগ বিষয়টি উপস্থাপনে বিরত থেকে স্বীয় বিবেচনায় মূল্যবৃদ্ধি করেছে। এর ফলে সরকারের ভাবমূর্তি বিপন্ন এবং ভোক্তাদের কাছে সরকার এখন অপ্রিয়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে বিইআরসি, জ্বালানি সম্পদ বিভাগ, এবং বিপিসির কাছে ৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ক্যাব। সেগুলো হলো-
১. জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিও প্রজ্ঞাপনটি বাতিল বা প্রত্যাহার কিংবা স্থগিত করে প্রস্তাবটি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিইআরসিতে পাঠানো হোক। ২. বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মূল্য বিইআরসি নিজেই পুনর্বিবেচনার করুক। আইনী বিধান মতে মূল্যবৃদ্ধিতে কোন পক্ষ সংক্ষুব্ধ হলে মূল্যবৃদ্ধির আদেশ পুনর্বিবেচনা করার বিধান রয়েছে। ৩. বিপিসি রাজস্ব চাহিদার অতিরিক্ত ৪৩,৭৩৪.৭৮ কোটি টাকা ভোক্তাদের নিকট থেকে অবৈধভাবে আদায় করেছে। জ্বালানির মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ভর্তুকি প্রদানের লক্ষ্যে এ-অর্থ দিয়ে এনার্জি প্রাইচ স্ট্যাবিলাইজড ফান্ড গঠন করা হোক। যেমনটি ভোক্তাদের টাকায় গ্যাস উন্নয়ন তহবিল, জ্বালানি নিরাপত্ত তহবিল এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল গঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কমিটির আহবায়ক স্থপতি মোবাশ্বার হাসান জানান, তেলের দাম বাড়ানোর পর পরিবহনভাড়া তো এমনিতেই বাড়াবে। তাহলে মাঝের তিন দিন মানুষকে অমানবিক দুর্ভোগ কেন দেয়া হলো?

এএইচ