ঢাকা, শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২ | ৮ মাঘ ১৪২৮ | ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

ফাইল ছবি

সত্যিই অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়। কিন্তু তা করে দেখালেন ম্যাথু ওয়েড। কিভাবে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ বের করে আনা যায়, দুবাইয়ে দেখা গেল তা। হাতের মুঠোয় থাকা পাকিস্তানের ম্যাচ এক ঝটকায় বের হয়ে গেল। ওয়েডের টানা তিন ছক্কায় অস্ট্রেলিয়া পেল অবিশ্বাস্য এক জয়। পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া।

অথচ এক সময় ১৮ বলে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৩৭ রান। হাসান আলি দেন ১৫ রান। ১২ বলে দরকার ২২ রান। বোলিংয়ে আসেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। প্রথম তিন বল ভালোই করলেন। তৃতীয় বলে ওয়েডের ক্যাচ ছাড়েন হাসান আলি। ম্যাচটি যেন তখনেই ফসকে যায় পাকিস্তানের। কারণ পরের তিন বলে টানা তিন ছক্কায় হাঁকিয়ে ম্যাচ জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।

আগে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১৭৬ রান করে পাকিস্তান। জবাবে এক ওভার হাতে রেখে জয়ের ৫ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় অস্ট্রেলিয়া।


কঠিন লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ওভারেই অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন পাক পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। রানের খাতা খুলার আগেই বিদায় নেন ফিঞ্চ।

মিচেল মার্শকে সাথে নিয়ে শুরুর বিপর্যয় রোধ করার চেষ্টা করেন মারকুটে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। এই জুটি ৫০ পার করেন। দলীয় ৫২ রানের মাথায় বিদায় নেন মার্শ। শাদাব খানের বলে আসিফ আলির হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ২২ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ২৮ রান করেন মার্শ।

টিকতে পারেননি স্টিভেন স্মিথ। তিনিও শাদাব খানের শিকার। ৬ বলে তিনি করেন ৫ রান। ফিফটি থেকে এক রান দূরে থাকতে আউট হন ওয়ার্নার। শাদাবের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৩০ বলে তিনটি করে সমান চার-ছক্কায় ৪৯ রান করেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার।

যার জ্বলে উঠা ছিল খুবই দরকার। সেই ম্যাক্সওয়েল পারেননি কিছু করতে। তিনিও শাদাবের ঘূর্ণিতে নাকাল। ১০ বলে ৭ রান করে ক্যাচ দেন হ্যারিস রউফের হাতে।

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের আশা দেখান স্টয়নিস ও ওয়েড। দেখেশুনে চার-ছক্কার ঝলকানিতে রানের চাকা ভালোই সচল রাখেন এই দুজন।

১৮ বলে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৩৭ রান। হাসান আলি এই ১৮তম ওভারে এক চার ও এক ছক্কা হজম করে দেন ১৫ রান। ১২ বলে দরকার পড়ে ২২ রান। শাহিন শাহ আফ্রিদি প্রথম তিন বলে দেন চার রান। তৃতীয় বলে ওয়েডের ক্যাচ ছাড়েন হাসান আলি। এরপর টানা তিন ছক্কায় অস্ট্রেলিয়াকে অবিশ্বাস্য এক জয় উপহার দেন ওয়েড।

৩১ বলে দুই চার ও ছক্কায় ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন মারকুইস স্টয়নিস। ১৭ বলে চারটি ছক্কা ও দুটি চারে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাথু ওয়েড। বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে ৪ উইকেট নেন শাদাব খান।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা উড়ন্ত পাকিস্তানের। জ্বরের জন্য আগের দিন অনুশীলন করতে না পারলেও বাবরের সাথে ওপেনিংয়ে নামেন রিজওয়ান।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে রিজওয়ানকে ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া করে অস্ট্রেলিয়া। শেষ অবধি রিজওয়ান ফিফটির দেখা পেলেও পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম ফেরেন ৫০ ছোঁয়ার আগেই। ভাঙে ১০ ওভার স্থায়ী ৭১ রানের জুটি। ৫ চারে ৩৪ বলে ৩৯ রান করেন বাবর।

১২তম ওভারে দারুণ ছক্কায় প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হাজার রানের মাইলফলকে পা রাখেন রিজওয়ান। ম্যাচ শুরুর আগে হাজার থেকে ৩৪ রান দূরে ছিলেন তিনি।

৪১ বলে ফিফটি করা রিজওয়ান শেষ অবধি থামেন ব্যক্তিগত ৬৭ রানে।

পাকিস্তানের দলীয় রান তখন ১৪৩। রিজওয়ানকে বিদায় করে ৪৬ বল স্থায়ী ৭২ রানের জুটি ভাঙেন মিচেল স্টার্ক। পরের বল ছক্কায় ওড়ান ফখর। ওভার থেকে আসে ১৫ রান।

এবার ঝড় তুলতে পারেননি আসিফ আলি। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে প্যাট কামিন্সের স্লোয়ার টেনে ছক্কা মারার চেষ্টায় ধরার পড়েন লং অনে। মারেন গোল্ডেন ডাক।

১৯ ওভারে স্রেফ ৩ রান দেন কামিন্স। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে শোয়েব মালিককে বোল্ড করে দেন স্টার্ক। দ্বিতীয় ছক্কায় ফখর জামান স্পর্শ করেন ফিফটি। ৩২ বলে তিন চার ও চারটি ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন ফখর জামান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক নেন দুটি উইকেট। কামিন্স ও জাম্পা নেন একটি করে উইকেট।

এমএস