ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মে ২০২২ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ | ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩

পঞ্চম ধাপে ৭০৮ ইউপিতে ভোট চলছে

পঞ্চম ধাপে ৭০৮ ইউপিতে ভোট চলছে

ছবি : সংগৃহীত

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পঞ্চম ধাপে ৭০৮টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে। আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। পঞ্চম ধাপের ৪৮ জেলার ৯৫টি উপজেলার এসব ইউপিতে ভোট হচ্ছে। এসব ইউপির মধ্যে ৪০টিতে ভোট হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিনে-ইভিএমে। আর বাকিগুলো সরাসরি ব্যালটে।

এ ধাপে বিনাভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ১৯৩ জন। ভোটগ্রহণ সামনে রেখে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। এছাড়া আচরণবিধি দেখভালে জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও রয়েছেন। ইসির পক্ষ থেকে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বিগত ধাপগুলোর মতো এবারের ধাপেও সংঘাত ও সহিংসতার শঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধাপের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ছাড়াও দলটির বিপুল সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় সহিংসতার শঙ্কাও রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আসাদুজ্জামান জানান, পঞ্চম ধাপে ভোটগ্রহণের জন্য গতকালই ভোটসামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মাঠে আছেন। নির্বাচন ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আচরণবিধি দেখভালে জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও মাঠে রয়েছেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সত্ত্বেও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের মধ্যে। সম্প্রতি নির্বাচনে চলমান সহিংসতা রোধে মাঠ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ধাপের নির্বাচনে ১৯টি উপজেলায় সহিংসতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে মাঠ প্রশাসন। এজন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বিজিবি ও র‌্যাব।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের ছক থেকে জানা গেছে, প্রতি উপজেলায় র‌্যাবের দুটি মোবাইল টিম ও একটি স্ট্রাইকিং টিম মোতায়েন রয়েছে। বিজিবির মোবাইল টিম রয়েছে দুই প্লাটুন ও এক প্লাটুন সদস্য নিয়োজিত আছে স্ট্রাইকিং টিম হিসেবে। একই হারে কোস্ট গার্ডও মোতায়েন করা হয়েছে।

গত চার পর্বের নির্বাচনের প্রতিটি ধাপেই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিগত চার ধাপে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক।

পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে মোট ভোটার এক কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ১৯৫ জন। বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৬ হাজার ৪৫৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে তিন হাজার ২৭৪, সংরক্ষিত আসনে সাত হাজার ৯৫০ ও সাধারণ সদস্য পদে ২৫ হাজার ২৩৩ জন। তবে ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ১৯৩ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫২ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৩২ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১০৯ জন। গত ২৭ নভেম্বর এই ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

৭০৮টি ইউপির মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড় জেলায় আটটি, দিনাজপুরে ১৯টি, নীলফামারীতে ১১টি, লালমনিরহাটে সাতটি, কুড়িগ্রামে সাতটি, গাইবান্ধায় ১৬টি, জয়পুরহাটে পাঁচটি, বগুড়ায় ২২টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪টি, নওগাঁয় ২৩টি, রাজশাহীর ১৯টি, নাটোরে ১১টি, সিরাজগঞ্জে ১৬টি, পাবনায় ১৫টি, কুষ্টিয়ায় ১১টি, ঝিনাইদহে ২০টি, যশোরে ২৩টি, সাতক্ষীরায় ১৬টি, ভোলায় ১২টি, পিরোজপুরে পাঁচটি, জামালপুরে ১১টি, শেরপুরে আটটি, ময়মনসিংহে ২৬টি, নেত্রোকোণায় ২১টি , টাঙ্গাইলে ১৩টি, কিশোরগঞ্জে ১৫টি, মানিকগঞ্জে ২১টি, মুন্সীগঞ্জে সাতটি, ঢাকায় ১১টি, গাজীপুরে আটটি, নরসিংদীতে ১৫টি, রাজবাড়ীতে ১০টি, ফরিদপুরে ১৫টি, গোপালগঞ্জে ১৫টি, মাদারীপুরে দুটি, শরীয়তে ১৭টি, সুনামগঞ্জে ১৭টি, সিলেটে ১৮টি, মৌলভীবাজারে ১৮টি, হবিগঞ্জে ২১টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯টি, কুমিল্লায় ২৫টি, চাঁদপুরে ২৭টি, ফেনীতে ১২টি, নোয়াখালীতে ২০টি, চট্টগ্রামে ২৫টি, খাগড়াছড়িতে পাঁচটি ও বান্দরবানে তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে নির্ধারিত সময় পার করে গত বছরের ২১ জুন প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়। কিছু কিছু স্থানে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে সেসব জায়গায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ফের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় প্রথম ধাপের বাকিগুলো ২০ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর, তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থধাপের ভোটগ্রহণ হয়। আজ পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে। এ ছাড়া ষষ্ঠ ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৩১ জানুয়ারি। আর সপ্তম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি।

এমএস