ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২ | ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ | ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

বিচারপতি টিএইচ খানের ইন্তেকাল: আজ বন্ধ সুপ্রিম কোর্ট

বিচারপতি টিএইচ খানের ইন্তেকাল: আজ বন্ধ সুপ্রিম কোর্ট

ছবিঃ সংগৃহীত

বর্ষীয়ান আইনজীবী, সাবেক বিচারপতি, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান টিএইচ খান রবিবার ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিলো ১০২ বছর। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ বসবে না সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ।

আজ সোমবার সকালে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, সিনিয়র আইনজীবী বিচারপতি টি এইচ খানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকার্য পরিচালনা করা হবে না। আপিল বিভাগের অন্য পাঁচ বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে গতকাল রবিবার বিকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান টিএইচ খান। মৃত্যুকালে তিন ছেলে, এক মেয়েসহ নাতি-নাতনি ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গিয়েছেন তোফাজ্জেল হোসেন খান ওরফে টিএইচ খান। মরহুমের স্ত্রী ২০১১ সালে মারা যান।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় টিএইচ খানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে তাঁর লাশ দাফন করা হবে বলে জানান তাঁর পুত্র সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান।

১৯২০ সালের ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার ঔটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন টিএইচ খান। ময়মনসিংহের ফুলপুর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করেন তিনি। বেশ কিছুদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ কলেজে অধ্যাপনাও করেন তিনি। 

১৯৫১ সালের ১৪ মার্চ তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী নিযুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ১৯৭৩ সালের জুলাই মাস থেকে আবার আইন পেশায় ফিরে আসেন।

১৯৭৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর আইন, শিক্ষা, ধর্ম, ভূমি ও রাজস্ব এবং ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদের নেতৃত্বে নতুন সামরিক আইন জারি করা হলে তিনি আবার আইন পেশায় ফিরে যান। ১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনের বিরোধিতা করায় গ্রেপ্তার হন তিনি।

১৯৯২ সালে টিএইচ খান সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থ জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশনের মেম্বার এবং একই বছর জাতিসংঘের বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।

এএইচ