ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২ | ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ | ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

আমরণ অনশনে শাহজালালের শিক্ষার্থীরা

আমরণ অনশনে শাহজালালের শিক্ষার্থীরা

ছবিঃ সংগৃহীত

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে বুধবার মানববন্ধন করেছে শিক্ষকদের একটি অংশ। আরেকটি অংশ গত রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে শিক্ষার্থীরা রাজি হননি।

রাত পৌনে ৯টার দিকে কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল শিক্ষক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত না হওয়ায় তাঁদের কথা শোনেননি আন্দোলনকারীরা।


আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরুর আগে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘আমরা আন্দোলন শুরু করার পর আমাদের শিক্ষকরা আমাদের পাশে দাঁড়াননি। তাঁরা এতটুকু সংবেদনশীল আচরণ দেখাননি।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীরা। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে শাবিপ্রবির অর্ধশতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী অংশ নেন। জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে নিয়ে সংহতি জানান তাঁরা।

সমাবেশ শেষে তাঁরা নগরীতে মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণের মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। পরে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যায় তাদের সংহতি জানাতে।

এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ক্যাম্পাসে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান। তবে বুধবার পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে নিজেদের বক্তব্য জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবাার রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গত রবিবার উপাচার্যের পথ আটকে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে উদ্যত হয়েছিলেন। এ সময় উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রাণ রক্ষায় আইআইসিটি ভবনে আশ্রয় নেন।

এএইচ