ঢাকা, রবিবার, ৩ জুলাই ২০২২ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ | ৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

আমার বাবা এবং একজন জুলু ভাইয়ের কথা

আমার বাবা এবং একজন জুলু ভাইয়ের কথা

ছবিঃ: গ্লোবাল টিভি

সৈয়দা রাশিদা বারী: চর্চা হলো লোহা ও ইস্পাতে সান দেবার মতো। যা না করলে ধারালো বটিও মরীচিকায় ছেয়ে হয়ে পড়ে অকেজো, অযোগ্য। আর করলে অর্থাৎ চর্চা করলে বা সান দিলে অকেজো, অযোগ্য, ভোঁতাও হয়ে যায় চোখা, ধারালো এবং যোগ্য থেকে সুযোগ্য। এই জন্যই কথায় আছে, বড় যদি হতে চাও, ছোট হও তবে। এর প্রমাণ হিসেবে আজ একজন মানুষের কথা বলবো। তিনি আমাদের জুলু ভাই। তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা ভার্সিটিতে ম্যাথমেটিক্সের ছাত্র অবস্থায় জেল খাটা ভাষাসৈনিক। তিনি ছিলেলন দাবা খেলায় একজন সুদক্ষ বিশেষজ্ঞ। জুলু ভাইয়ের সংগে প্রখ্যাত দাবাড়ু ড. কাজী মোতাহার হোসেনও দাবা খেলেছেন। শুনেছি, ড. কাজী মোতাহার হোসেন খেলার জন্য প্রায়ই জুলু ভাইয়ের কাছে আসতেন। তিনি জুলু ভাইদের কলতাবাজারের বাসা ছাড়াও সিদ্দিক বাজারের বাসায়ও এসেছেন। জুলু ভাইদের ১৩১নং সিদ্দিক বাজারের বাসার নাম ছিলো ‘দারুস সালাম’। 
 
জুলু ভাইয়ের বাবা সৈয়দ আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আব্দুল হাই খান বাহাদুর (ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট)। পরিবারের জন্য এই বাডিটি নির্মাণ করান ১৯৩০ সালে। কিন্তু ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার এটি নিয়ে নেয়। এরপর এটি ঢাকা কলেজের (১৯৪৩ সালের জানুয়ারী থেকে ১৯৫৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত) কাজে ব্যবহার করা হয়। এরপর এটি সরকারের রেশন অফিস (১৯৫৫-১৯৬২) হিসাবে ব্যবহার করা হয়। 
 
ভাষাসৈনিক সৈয়দ শরফুদ্দিন মোঃ রেজা হাই (জুলু) ঘিওর কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন (১৯৯০-১৯৯২)। জুলু ভাই আর তাঁর বোন  নীলু আপা (জাহানারা হক, সাবেক অধ্যক্ষ, ইডেন কলেজ) রাষ্ট্রের বাছে সেভাবে মূল্যায়ন পাননি। এ রকম আরও বহু প্রতিভার অবদান দেশের কাছে অস্বীকৃত। তাঁরা নিজেরাও নিজেদের প্রতি অবহেলা করে  তাঁদের ক্যারিয়ার মাটি করে দিয়েছেন। একটাই কারণ-অভিমান। পত্র-পত্রিকা বা মিডিয়ায় হাইলাইট না করা হলে বড় অবদানও ধুয়েমুছে হারিয়ে যায়। কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিণাথ তার আর একটি প্রমাণ। আমার দাদা লন্ডন হতে কাঙালের এম এন প্রেসের ছাপার মেশিনটি এনে দিয়েছিলেন। আমার বাবাও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জেল খেটেছেন। বাবা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেরও প্রত্যক্ষ সৈনিক। জেলে যাওয়ায় জগন্নাথ কলেজে তাঁর আই এস সি ফাইনাল পরীক্ষা দেয়া হয়ে ওঠেনি। অথচ তাঁর নামও নেই। 
 
বঙ্গবন্ধুর সাথে দেশের জন্য কাজ করেছেন আমার বাবা। কিন্তু তিনি কোনো মিডিয়ায় উঠে আসতে পারেননি। আসলে পারিবারিক সাপোর্ট ছাড়া বড় হওয়া খুবই কঠিন। তার চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য গণমাধ্যমের সাপোর্ট না পাওয়া। তাই যেমন লাগবে ঘরের সাপোর্ট অর্থাৎ পরিবারের সহযোগিতা, তেমন লাগবে পরের সাপোর্ট অর্থাৎ গণমাধ্যমের সহযোগিতা। এই দুই  ছাড়া কখনও কোন অর্জনের স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব নয়। 
 
এএইচ