ঢাকা, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২ | ১৭ আষাঢ় ১৪২৯ | ৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

মহাসড়কে গরু ডাকাতি করে রাখা হয় খামারে!

মহাসড়কে গরু ডাকাতি করে রাখা হয় খামারে!

মোঃ মোক্তাদ হোসেন, গাজীপুর: হাসড়কে গরু ডাকাতি করে রাখা হয় খামারে, সুযোগ বুঝে করা হয় বাজারে বিক্রি। ঘটনাটি গাজীপুরের। গরু ডাকাতি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এমন একটি খামারের সন্ধান পেয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

গত ১৮ মার্চ দিনগত রাত দেড়টায় ছাদেক মিয়া দিনাজপুরে আমবাড়ি হাট থেকে ৭টি গাভী, ২টি বকনা বাছুর ও ৫টি ষাড়সহ মোট ১৪টি গরুর কিনে নিয়ে  ঢাকা-টাংগাইল মহাসড়কের কাশিমপুর থানার মোজার মিল সানসিটি সংলগ্ন কাঠ বাগানের সামনে পৌছালে একটি মাইক্রোবাস ডানদিকে গরুসহ ট্রাকটিকে চাপ দেয়। ৭ থেকে ৮ জনের একটি ডাকাত দল গরুর মালিক ছাদেক ও তার ছেলে কে চোখ, মুখ, হাত পা বেধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর কাশিমপুর থানায় একটি ডাকাতি মামলা রুজু হয়।

মামলার তদন্তে মাঠে নামে জিএমপি কাশিমপুর ও কোনাবাড়ি থানা পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-টাংগাইল মহাসড়কের চক্রবর্তী এলাকায় একটি ট্রাকসহ সুমন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আশুলিয়া দক্ষিন নাল্লাপোল্লা গ্রামে সাদিয়া ডেইরি ফার্ম নামে একটি খামার রয়েছে। তদন্তকারী পুলিশ খামারে গিয়ে ৪টি গাভী, ০২টি বকনা বাছুর, ৩৫টি ষাড়সহ মোট ৪১ টি গবাদি পশু খামারে পায়। গবাদিপশুর ক্রয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে খামারের মালিক সুমন তা দেখাতে পারেরি।

এক পর্যায় পুলিশ মামলার বাদী ছাদেক মিয়াকে জানায়। তিনি এসে খামারে গিয়ে তার চুরি হওয়া ৪টি গাভী, ২টি বকনা বাছুর, ৫টি ষাড়সহ ১১টি গরু শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ আশুলিয়া জিরানী বাজার সুমনের বাসা তল্লাশী করে গরু বিক্রি নগদ ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৭৫০ টাকা জব্দ করে। এরপর আসামী সুমনের কথায় কালিয়াকৈর, আশুলিয়া, জিরানী বাজার অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রের আরো ৫ জনকে আটক করে জিএমপি কোনাবাড়ি ও কাশিমপুর থানা।

গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামীদের নামে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি মামলা রয়েছে। এর মধ্যেই ১৩ টি গরু শনাক্ত করেছে মালিকরা। বাকি গরুগুলো মালিকদের বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার জাকির হাসান।

এএইচ