ঢাকা, রবিবার, ৩ জুলাই ২০২২ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ | ৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

শিল্পকলায় ‘পরানের গহীন ভিতর’ শীর্ষক স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্রের আবৃত্তিসন্ধ্যা

শিল্পকলায় ‘পরানের গহীন ভিতর’ শীর্ষক স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্রের আবৃত্তিসন্ধ্যা

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘স্বরকল্পন আবৃত্তি চক্র’ দলের প্রযোজনা সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচিত ‘পরানের গহীন ভিতর’ শীর্ষক আবৃত্তিসন্ধ্যা। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফের মৃত্যুতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শুক্রবার (১ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একডেমির জাতীয় সংগীত, নৃত্যকলা ও আবৃত্তি মিলনায়তনে একক ও দলগত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেন মোস্তাফিজ রিপন। আবৃত্তি সন্ধ্যায় ১৬ জন বাচিকশিল্পী কবিতা পাঠ করেন।

অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে নির্দেশক মোস্তাফিজ রিপন বলেন, ‘পরানের গহীন ভিতর’ নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম ৯ মাস আগে, অনলাইনে। শুরুতে ভরসা পাচ্ছিলাম না যে, অনলাইনে রিহার্সেল মনমতো হবে কি না। আমি দেশের বাইরে থাকায় শিল্পীরা ছিল আমার গোলার্ধের একদম অন্য পাশে। সম্পূর্ণ আমার থেকে ভিন্ন টাইম জোনে “পরানের গহীন ভিতর”-এর শিল্পীরা। এর ভেতরেই আমাদের রিহার্সেল চলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সৈয়দ শামসুল হক লোকজ শব্দের এক খলবলে নদীর তীরে যেন আমাদের ছেড়ে দেন। আমরা একটি একটি করে শব্দের শিউলি তুলে নিয়ে আবিষ্কার করি বাংলা সাহিত্যের এক অনুপম সম্ভার “পরানের গহীন ভিতর”। চেতন আর অবচেতনের দোলায় মানুষ যে স্বপ্ন বোনে, বন্ধন খোঁজে, মুক্তি চায়, সংসারে জড়ায়, কিংবা পালাতে চায়, প্রতারণা করে অথবা প্রতারিত হয়—তার পরও কি সে জানে পরান কেন বাজিকরের মতো এত বিস্ময় জমিয়ে রাখে? “কীসের সন্ধান করে মানুষের ভেতরে মানুষ?”—এমন সব জীবন্ত অনুভূতির পূর্ণ প্রকাশে মানুষের পরানের গহীনে মোচড় দেয়। এমনই জীবনকথনে সাজানো ‘পরানের গহীন ভিতর’ নিয়ে আবৃত্তি প্রযোজনা মানুষের অনুভূতিকে আলোড়িত করবে।’

স্বরকল্পন আবৃত্তি চক্রের আহ্বায়ক কমিটির প্রধান শাহীদুল হক মিল্কী প্রযোজনাটি সম্পর্কে বলেছেন, ‘সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের এক অনন্যসাধারণ সৃষ্টি ‘পরানের গহীন ভিতর’ কাব্যগ্রন্থ। এর প্রতিটি কবিতা প্রাণের গভীরতর অনুভূতিগুলোর সাবলীল আর নান্দনিক উপস্থাপনায় সমৃদ্ধ। দীর্ঘ সময় অনুশীলন শেষে স্বরকল্পনের আবৃত্তিশিল্পীরা এই প্রযোজনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় মঞ্চায়ন করেছে।’

স্বরকল্পন আবৃত্তি চক্রের সদস্য ও প্রযোজনাটির সমন্বয়ক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘আমরা একঝাঁক তরুণ হৃদয় শুক্রবার সন্ধ্যায় মিলিত হই প্রাণের উচ্ছ্বাসে। “পরাণের গহীন ভিতর” সৈয়দ শামসুল হকের এমন এক অনবদ্য সৃষ্টি, যেখানে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়বৃত্তির বহিঃপ্রকাশ তুলে ধরেছেন অত্যন্ত সুদক্ষতার সঙ্গে।’

স্বরকল্পন আবৃত্তি চক্রের প্রাক্তন নির্বাহী সদস্য মো. রাশেদুর রহমান বলেন, ‘করোনার ভয়াল আগ্রাসনের চলমান পরিস্থিতির মধ্যে অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এই অনুষ্ঠান আমাদের সমৃদ্ধ প্রযোজনা।’

আবৃত্তি চক্রের এই প্রযোজনায় অংশ নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ ও তরুণ আবৃত্তিশিল্পীরা। প্রযোজনায় অংশগ্রহণ করেন জনি মুহাম্মদ নুর উদ্দিন, আশরাফি জাহান মিতু, আনতারা রহমান প্রীতি, মনোয়ার হোসেন, বর্ণালী সরকার, তৃষা খন্দকার, শহীদুল হক মিল্কী, মুনতাহাব মুনিয়া, সোহেল আহমেদ, রিফাত আরা ইসলাম, খুরশিদা ইয়াসমিন, মাজেদা পারভীন বকুল, হাবিবুল্লাহ জোয়াদ্দার, আরিফ আনোয়ার ও দেওয়ান সুমাইয়া সুলতানা আশা।

মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন জাহিদুর রহমান। আবহ সংগীতে মাহফুজ হৃদয়, মোবারক হোসাইন ও সজীব বাউল। এ ছাড়া আলোক প্রক্ষেপণে ছিলেন কমল কান্তি সরকার, আরিফ আনোয়ার, মো. ইলিয়াস আকন্দ অপি ও কাজী সিনহা এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণে তৈয়ব।