ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ জুলাই ২০২২ | ২০ আষাঢ় ১৪২৯ | ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষের মুখে যদি হাসি ফোটানো যায়, এর চেয়ে বড় পাওয়া একজন রাজনীতিবিদের জীবনে আর কী হতে পারে? জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উন্নত ও সুন্দর জীবন উপহার দিয়ে জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। আমরা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে গৃহহীন মানুষদের কাছে নবনির্মিত বাড়ির দলিল ও চাবি ভার্চুয়ালি বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি ৩২ হাজার ৯০৪টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে ঘর বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৩২ হাজার ৪০৯টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে জমি ও ঘর দিয়েছি। আমি আসন্ন ঈদুল ফিতরের উপহার হিসেবে আজ এসব জমি ও ঘর দিয়েছি। সরকার মুজিববর্ষের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই দফায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসিত করেছে। যারা ঘর পেয়েছে, তাদের মুখের হাসি আমি খুব পছন্দ করি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বেদে, তৃতীয় লিঙ্গ, চা-শ্রমিক, কুষ্ঠ রোগী, ভিন্নভাবে সক্ষমসহ সুবিধাবঞ্চিত সব শ্রেণির মানুষকে সুন্দর জীবন উপহার দিতে গৃহায়ণ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চার জেলার চারটি স্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সুবিধাভোগী এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ওই চারটি স্থান হলো—ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পোড়াদিয়া বালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, বরগুনা সদর উপজেলার খেজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার অধীনে খোকশাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাজীগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্প।

মুজিববর্ষে সারা দেশে প্রতিটি ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে গৃহায়ণের আওতায় নিয়ে আসার সরকারি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তিন ধাপে এ পর্যন্ত এক লাখ ৫০ হাজার ২৩৩টি বাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।

২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি ৬৩ হাজার ৯৯৯টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার প্রথম ধাপের অধীনে ঘর পেয়েছিল। ৫৩ হাজার ৩৩০টি পরিবার গত বছরের ২০ জুন আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে নিজেদের একটি ঠিকানা পান।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের আওতায় সারা দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মধ্যে আরও ৬৫ হাজার ৬৭৪টি ঘর বিতরণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর মধ্যে, প্রধানমন্ত্রী আজ ৩২ হাজার ৯০৪টি বাড়ি হস্তান্তর করেছেন। সারা দেশের ৪৯২টি উপজেলায় এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে এক লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছর পর্যন্ত এক লাখ ৮৩ হাজার তিনটি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন, গৃহহীন, হতদরিদ্র পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে জমি ও বাড়ির মালিকানা দেয়া হয়।

চলতি অর্থবছর পর্যন্ত বাড়ি নির্মাণে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৯৭২ কোটি সাত লাখ পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

খাস জমি ছাড়াও গৃহহীন ও ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার ১৬৮ দশমিক ৩২ একর জমি কিনেছে। এর মধ্যেই জমি কেনার জন্য ১১৫ দশমিক ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

সরকার প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণের জন্য সারা দেশে অবৈধ দখল থেকে দুই হাজার ৯৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচ হাজার ৫১২ দশমিক শূন্য ৪ একর খাস জমি উদ্ধার করেছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ১৯৯৭ থেকে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট পাঁচ লাখ সাত হাজার ২৪৪ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে এবং পুনর্বাসিত পরিবারগুলোকে তিন মাসের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

এএইচ