ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ | ১২ শা‘বান ১৪৪৫

নওগাঁয় মাছের সংকট: লোকসানে শুটকি উৎপাদনকারীরা

নওগাঁয় মাছের সংকট: লোকসানে শুটকি উৎপাদনকারীরা

ছবি: গ্লোবাল টিভি

কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ: নওগাঁর আত্রাইয়ে নদী-খাল-বিলে দেশী মাছের সংকট থাকায় বেশি দামে মাছ কিনে লোকসানের কবলে পড়েছেন শুটকি উৎপাদনকারী চাতাল মালিকরা। তারা বলছেন, অনেকাংশে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী (রিং জাল), কারেন্ট ও সুতি জাল দিয়ে মাছ ধরায় দেশী মাছের এই সংকট দেখা দিয়েছে। এতে একদিকে যেমন বেশ কিছু চাতাল বন্ধ হয়েছে, অপর দিকে উৎপাদন লক্ষমাত্রা সিকিতে নেমে এসেছে। তবে এখন থেকেই এসব নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে না পারলে আগামী বছর থেকে এ সংকট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা করেছেন চাতাল মালিকরা।

আত্রাই উপজেলা মৎস্য দপ্তর সুত্রে জানাগেছে, এই উপজেলা  জুড়ে চারটি নদী, ২৫টি বিল, ২৩টি প্লাবনভূমি এবং ৩ হাজার ৬৭৬টি সরকারী-বেসরকারী পুকুর রয়েছে। যাহার মোট আয়তন রয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৮২১হেক্টর। বিস্তির্ণ এসব জলাভূমিতে প্রাকৃতিক প্রজনন সুবিধা থাকায় দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন তুলনামূলক অনেক বেশি হয়ে থাকে। ফলে শুটকি উৎপাদনে মূল ভূমিকা রাখে এই উপজেলা। উপজেলার নদীর তীরবর্তি এলাকা জুরে টেংরা, পুঁটি, টাকি, শোল, চান্দা, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের শুটকি উৎপাদন করে থাকেন চাতাল মালিকরা। এই এলাকার শুটকি গুণে-মানে এবং স্বাদে ভাল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ ভারতে রপতানি করা হয়ে থাকে। উপজেলা জুড়ে ১৮টি চাতাল রয়েছে শুটকি উৎপাদনে। চলতি মৌসুমে এসব চাতাল থেকে ৬১১মেট্রিকটন শুটকি উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চাতাল মালিকরা বলছেন, নদী-খাল-বিলে নিষিদ্ধ জালের এতো ব্যবহার বেশি হয়েছে যে, দেশি মাছের চরম সংক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চায়না দুয়ারী (রিং) জাল দিয়ে মাছ ধরলে মাছের ডিম থেকে শুরু করে সব ধরনের মাছ ধরা পড়ে। ফলে মাছের বংশ বিস্তার করতে পারেনা। এখনই মাছের বংস নিধনকারী চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে না পারলে আগামী বছর মাছের সংকট চরম আকার ধারণ করবে বলে আশংকা। 

ফলে দেশি মাছের আকালে সবগুলো চাতাল বন্ধ হয়ে যাবে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, মাছের প্রজনন সময়ে অনেকটায় মাঠ শুকনা থাকায় তেমন বংস বিস্তার করতে পারেনি। যেটুকু মাছ ছিল তা রিং জাল দিয়ে ধরার কারনে রেনু পোনা, মা মাছ সব ধরনের মাছ ধরা পড়েছে। ফলে অনেকটা মাছের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রিং জালের প্রভাব সারাদেশে ব্যপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। আমরা গত জুলাই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় ২০টির মতো ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে প্রায় দেড় হাজার মিটার জাল জব্দ এবং জরিমানা করেছি। এই জালের ব্যহবার রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখা হচ্ছে। তবে শুটকি উৎপাদন লক্ষমাত্রায় অনেকটায় কম হবে, কিন্তু লোকসান হওয়ার কথা নয় ।