ঢাকা, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১ বৈশাখ ১৪৩১ | ৫ শাওয়াল ১৪৪৫

শরীয়তপুরে পাঠাগার নিয়ে যা ভাবছেন পাঠকরা

শরীয়তপুরে পাঠাগার নিয়ে যা ভাবছেন পাঠকরা

গ্লোবাল টিভি ছবি

সাইফুল ইসলাম আকাশ, শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর পৌরসভার মধ্যে অবস্থিত জেলার একমাত্র  ভাষাসৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে ৪৩ হাজারের বেশি বই রয়েছে। ডিজিটাল বই পড়ার জন্য রয়েছে এখানে একটি আধুনিক কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ।  এছাড়াও নিয়মিত প্রকাশিত ১১টি জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক পত্রিকা পড়ার সুযোগ রয়েছে এই গ্রন্থাগার। গণগ্রন্থাগারে নিবন্ধিত পাঠক মাত্র ৫১ জন।

নিরিবিলি পরিবেশে বই পড়ার জন্য রয়েছে ১১০টি আসন তবে এত আয়োজন থাকলেও পাঠকের অভাবে  গ্রন্থাগারের অধিকাংশ বই পড়ে আছে বুক সেলফে। আর পাঠকরা বলছেন গণগ্রন্থাগার সব ধরনের বই না পাওয়ায় অনলাইন মাধ্যম ও মোবাইল ই-বুক এখন জনপ্রিয় তাদের কাছে। 

পঅঠকরা বলছেন, বই অনলাইনে পিডিএফ থাকার কারণে বুকিং এর মাধ্যমে পেমেন্টের মাধ্যমে সেটা অনলাইন থেকে ক্রয় করে। বাসায় বসে পড়ে নিতে পারি। এজন্য এখন আর সেরকম লাইব্রেরীতে যাওয়া হয় না। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সেখানে বইগুলোর চলন নেই। যুগের সাথে মিল রেখে আমরা যে বইগুলো চাচ্ছি সেগুলো লাইব্রেরীতে নেই সে কারণেই অনলাইনে আমরা বইগুলো কিনে পড়ছি।

শিক্ষকরাও বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তির কারণেই পাঠাগার বিমুখ হচ্ছে পাঠক। একই সাথে পাঠক চাহিদার বিবেচনায় বইয়ের সংগ্রহ বাড়ানোর তাগিদ তাদের।

এ বিষয়ে গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি। যেমন শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা,উপস্থিত ছড়ালেখা প্রতিযোগিতা,রচনা প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে আমাদের গ্রুপ করা থাকে, সেখানে আমাদের সব ধরনের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ সুযোগ পায়। আমরা মনে করি, এ ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আমরা পাঠকদের কাছে পৌঁছাতে পারবো। 

তিনি আরো বলেন, পাঠকদের চাহিদা চাকুরীর বই, আইনের বই কিন্তু আমাদের এখানে সাহিত্য রিলেটেড বইগুলো বেশি। এছাড়া রয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই, ইতিহাসের বই। পাঠকদের পাঠাগার মুখি করার জন্য আমরা একাডেমিক বইগুলো আমাদের লাইব্রেরীতে রেখেছি। ডিজিটাল লাইব্রেরীর অনেক সুবিধা রয়েছে, আমাদের পাবলিক লাইব্রেরীতে শুধু সুফিয়া কামাল গনগ্রন্থাগার ই-বুকের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। একজন পাঠক বাসায় বসে আমাদের লাইব্রেরির বই পড়তে পারে। আমরা জেলার পর্যায়ে ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, সেই প্রকল্পের মাধ্যমে লাইব্রেরী অটো মেশিন এবং ডিজিটাল লাইব্রেরী সবই করা হবে। যাতে পাঠকরা বাসায় বসে আমাদের লাইব্রেরীর বই পড়তে পারে।