ঢাকা, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১ বৈশাখ ১৪৩১ | ৫ শাওয়াল ১৪৪৫

বৃহস্পতিবার বইমলো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার বইমলো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: শুরু হচ্ছে ২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলা।‌ আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গায় মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো বসবে।

৬৩৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে এবারের মেলায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠান ১৭৩টি ইউনিট এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠান ৭৬৪টি ইউনিট বরাদ্দ পেয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। এরই মধ্যে জানানো হয়েছে, এবার বইমেলার প্রতিপাদ্য ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’।

এবারের বইমেলার সার্বিক আয়োজনের দায়িত্বে থাকছে বাংলা একাডেমি নিজেই। অন্যান্য বছরের মতো কোনো ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা থাকছে না এবার।

সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, একাডেমির পরিচালক (প্রশাসন) ও বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হাসান কবির ও বইমেলার স্পন্সর প্রতিষ্ঠান বিকাশের সিএমও মীর নওবত আলী।

বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘কালেক্টেড ওয়ার্কস অব শেখ মুজিবুর রহমান : ভলিউম-২’সহ কয়েকটি নতুন বইয়ের ‘গ্রন্থ-উন্মোচন’ করবেন। এদিন তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারও তুলে দেবেন পুরস্কৃতদের হাতে।

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মুজাহিদুল ইসলাম জানান, এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতোই রাখা হয়েছে। তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে মেট্রো রেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে মেলা থেকে বের হওয়ার পথ এবার একটু সরিয়ে রমনা কালীমন্দিরের গেটের কাছাকাছি করা হয়েছে।

এ ছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট আটটি প্রবেশ ও বাহির পথ থাকবে।
গত বছরের মতোই শিশুচত্বর মন্দির এলাকার গেট দিয়ে প্রবেশের পর ঠিক ডান দিকেই বড় পরিসরে রাখা হয়েছে। এতে শিশুরা স্বচ্ছন্দে ঘোরাফেরা করে বই দেখতে পারবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতাও থাকছে। এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। প্রায় ১৭০টি লিটল ম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এবারের মেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে নতুন ও পুনর্মুদ্রিত ১০০টি বই। বাংলা একাডেমি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সবাই ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। একাডেমির তিনটি প্যাভিলিয়ন এবং শিশু-কিশোর উপযোগী প্রকাশনা বিক্রির একটি স্টল থাকবে।

বইমেলা ১ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। তবে রাত সাড়ে ৮টার পর কেউ বাইরে থেকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা  থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। আর শহীদ দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হবে সকাল ৮টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।