ঢাকা, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১ বৈশাখ ১৪৩১ | ৫ শাওয়াল ১৪৪৫

ক্যাপসিকাম চাষ করে বিপণনের অভাবে বিপাকে কৃষি উদ্যোক্তা

ক্যাপসিকাম চাষ করে বিপণনের অভাবে বিপাকে কৃষি উদ্যোক্তা

গ্লোবাল টিভি ছবি

ফিরোজ শাহ, জামালপুর: বেকারত্ব থেকে ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ইউটিউব দেখে ৪০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হৃদয় মিয়া। ব্যাপক ফলন হলেও মফস্বলে এই সবজির চাহিদা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তিনি। তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় অবস্থিত যমুনার মধ্যবর্তী চর অঞ্চল সাপধরী ইউনিয়নের দুর্গম চেঙ্গানিয়া এলাকার প্রবাসী আবু সাঈদ মিয়ার ছেলে। 

জানা গেছে, ইউটিউব দেখে অল্প খরচে দ্বিগুণ লাভের আশায় ৪০ শতাংশ জমিতে ৫ হাজার  ক্যাপসিকামের চারা রোপণ করেন তিনি। দুই মাস পর থেকেই প্রতিটি গাছে ব্যাপক হারে ফল ধরা শুরু করে। ফলন বাম্পার হলেও স্থানীয় বাজারে ক্যাপসিকামের বিক্রি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এই উদ্যোক্তা।

প্রথম দফায় জমি থেকে সবজি তুলে ঢাকায় নেয়া হলেও তা বিক্রি করতে উৎপাদন খরচের তুলনায় পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মালর্চিং পদ্ধতিতে চাষ করা প্রতিটি গাছে ঝুলছে সবুজ ও লাল রঙের ক্যাপসিকাম। আর ক্যাপসিকামের খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন হৃদয় মিয়া।  ৪০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম চাষে বীজ কেনা, জমি প্রস্তুত, সার, বালাইনাশক ও মালর্চিং পেপার কেনা এবং শেড তৈরিসহ সব মিলিয়ে তার প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যদিও নিজেরা কাজ করায় এর মধ্যে শ্রমিকের খরচ খুব বেশি লাগেনি।

নবীন কৃষি উদ্যোক্তা হৃদয় মিয়া বলেন, বেকার থাকা অবস্থায় নানারকম বিষয় নিয়ে ভাবনা কাজ করতো। হঠাৎ ইউটিউবে ক্যাপসিকাম চাষের ভিডিও দেখে এই সবজি চাষের আগ্রহ জাগে। যেই ভাবনা সেই কাজ। প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা জুড়ে ক্যাপসিকামের চাষ শুরু করলাম। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তবে এর পরের অভিজ্ঞতা খুবই বাজে। স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা না থাকায় বিক্রি করতে পারছি না। ঢাকা শহরে এর চাহিদা থাকলেও গ্রাম থেকে পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হওয়ায় সবদিকে এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে।

হৃদয় মিয়ার পিতা মালয়েশিয়া ফেরত প্রবাসী আবু সাঈদ মিয়া বলেন, অভাব অনটনের সংসার আমার। যে কয় টাকা পুঁজি ছিলো তা দিয়ে আমার ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করে। প্রতিটি গাছে ফল ধরলেও বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছে। কারণ স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাপসিকাম সবজিটি খাওয়ায় অভ্যস্ত না থাকায় স্থানীয় কোনো হাট-বাজারে বিক্রি করতে পারছি না। অনেকটা বাধ্য হয়েই বিক্রি করতে হচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজারে নিয়ে গিয়ে। উৎপাদনের খরচের তুলনায় পরিবহন খরচ দ্বিগুণ পড়ছে।

সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বিএসসি বলেন, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হৃদয় মিয়ার ক্যাপসিকাম চাষ করা দেখে এলাকাবাসী আনন্দিত। এর আগে আমরা এ জেলায় কোথাও ক্যাপসিকামের চাষ দেখিনি। প্রথমবারের মতো এলাকায় চাষ করায় প্রতিদিনই দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন ক্যাপসিকামের খেত দেখতে আসছেন। তবে স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা না থাকায় কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এল এম রেজুওয়ান বলেন, ক্যাপসিকাম উচ্চ মূল্যের একটি নতুন ফসল। এ উপজেলায় প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে এ ফসল চাষ করে সাফল্য লাভ করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হৃদয় মিয়া। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়াও তার উৎপাদিত ফল বিক্রির জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকটি পাইকারের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি নিয়মিত সেখানে ক্যাপসিকাম বিক্রি করছেন।