ঢাকা, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪ | ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

কুষ্টিয়ায় ক্রমবর্ধমান তামাক চাষে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ

কুষ্টিয়ায় ক্রমবর্ধমান তামাক চাষে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ

গ্লোবাল টিভি ছবি

সনি আজিম, কুষ্টিয়া: তামাক প্রাণঘাতী এক বিষবৃক্ষের নাম। আর এই তামাক শব্দটি উচ্চারণ করলেই চলে আসে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার নাম। সিগারেট প্রস্তুতে ব্যবহৃত ভার্জিনিয়া তামাকের সিংহভাগই উৎপাদন হয় এ অঞ্চলে। নানা কারণে দিন দিন এখানে তামাকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে একদিকে যেমন জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে এখানকার প্রায় ৫০ ভাগ মানুষ। বেড়ে গেছে ক্যানসার ও প্রতিবন্ধীর পরিমাণ। ফলে সাময়িক আর্থিক সুবিধার জন্য তামাক চাষ করে চাষিরা নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে আসছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। 

জানা যায়, বৃহত্তর কুষ্টিয়া তথা মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় তামাক চাষের ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সর্বপ্রথম তামাকের আবাদ শুরু হয়।তার পর আস্তে আস্তে মিরপুর ও ভেড়ামারার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে যায় এই তামাক চাষ। তখন ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানি নামের একটি বহুজাতিক কোম্পানি কৃষদের কাছ থেকে তামাক ক্রয় করত। কিন্তু এখন আরও অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান তামাক ক্রয়ে এগিয়ে এসেছে। এর মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি, জাপান টোব্যাকো কোম্পানি, আবুল খায়ের কোম্পানি বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য। এ বছর নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে আদ্‌-দীন টোব্যাকো কোম্পানি। 

তবে , কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের,অতিরিক্ত উপপরিচালক মো: টিপু সুলতান বলেন, কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তামাক চাষ কোনোভাবে ঠেকানো যাচ্ছে না। বরং দিনকে দিন এই চাষ বৃদ্ধিই পেয়ে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ বছরে বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় তামাক চাষ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

কুষ্টিয়া সদর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার বলেন , এই তামাকের কাজে নিয়োজিত শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে। ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। দ্রুত তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দীর্ঘ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে কৃষক পরিবার ও জনসাধারণ।

তাই দ্রুত এই তামাক চাষ বন্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিকদের।