ঢাকা, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪ | ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

বান্দরবানে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় বিজিবি যা বলছে

বান্দরবানে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় বিজিবি যা বলছে

গ্লোবাল টিভি ছবি

আবদুল হাকিম, বান্দরবান : বান্দরবানের থানচিতে ব্যাংকে ডাকাতির খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ফলে রক্ষা পায় সোনালী ব্যাংকের ভল্টের প্রায় দুই কোটি টাকা। এছাড়া এই ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার ফয়সাল হুদাকেও অপহরণ করতে পারেনি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।

বুধবার এই ঘটনার পর বিজিবির কড়া পাহারায় ভল্টের টাকাসহ সেটি বান্দরবান সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় পৌঁছে দেয়া হয়। তবে সন্ত্রাসীরা থানচি কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের ক্যাশ থেকে কয়েক লাখ টাকা লুট করেছে।

বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (মিডিয়া) মো. শরীফুল ইসলাম এমনটাই দাবি করেছেন। 

বিজিবি জানায়, এদিন দুপুর ১টার দিকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা থানচি উপজেলা শহরে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে স্থানীয় কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে প্রবেশ করে। ব্যাংকের সবাইকে জিম্মি করে ক্যাশে থাকা টাকা লুট করে। তবে কৃষি ব্যাংকের কোনো ভল্ট না থাকায় তারা সোনালী ব্যাংকে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে। এসময় ব্যাংকের ম্যানেজার ফয়সাল হুদাকে জিম্মি করে ভল্ট ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়। তবে তাৎক্ষণিক বিজিবি সদস্যরা ঘটনার বিষয় জানতে পেরে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে তারা ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন। বিজিবি কাছাকাছি পৌঁছালে বিষয়টি টের পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভল্ট ও শাখা ম্যানেজারকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি থানচি শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

এ বিষয়ে বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল তৈমুর হাসান খান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আমাদের সদস্যদের ঘটনাস্থলে যেতে নির্দেশ দেই। তারা ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখান পৌঁছান। এর আগেই আমাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সোনালী ব্যাংকের ভল্ট ও ম্যানেজারকে রেখে পালিয়ে যায়।

সোনালী ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার ফয়সাল হুদা বলেন, সন্ত্রাসীরা ভল্টের চাবি না পেয়ে সেটি ভাঙার চেষ্টা করে। এসময় তারা আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। তবে বিজিবি আসছে, এমন খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, কৃষি ব্যাংক থেকে দুই লাখ ৪২ হাজার টাকা এবং সোনালী ব্যাংক থেকে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকা ডাকাতরা নিয়ে গেছে।

লে. কর্নেল তৈমুর হাসান খান আরও বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগে পুরো শহর নিয়ন্ত্রণে নিই। এরপর ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে ব্যাংকের ভল্ট বান্দরবান শহরে নিরাপত্তা দিয়ে পৌঁছে দিই।

পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন জানান, সন্ত্রাসীরা ব্যাংকের ২টি ভল্টের মধ্যে ১টি ভল্ট ভেঙে সেখানে থাকা নগদ টাকা পয়সা নিয়ে যায়। তবে কত টাকা লুট হয়েছে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, কর্মচারীদের মাসিক বেতন এবং ঈদ বোনাসখাতে প্রদানের জন্য সোনালী ব্যাংক, বান্দরবান শাখা থেকে মঙ্গলবার সকালে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ওই ব্যাংকে পাঠানো হয়।

এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগ নিয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা উপজেলা কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অংশে ঢুকে পড়ে বিভিন্ন স্থানে পজিশন নেয়। এর ফলে পুলিশ বা অন্য কোনো নিরাপত্তাকর্মী তাদের অবস্থান টের পায়নি। ব্যাংক লুটের পর তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী বেথেলপাড়া এবং পলিখাল দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে এত বড় ঘটনায় কোনো পক্ষই গুলি চালায়নি।

রুমা উপজেলা সোনালী ব্যাংকে সন্ত্রাসী হামলা, অস্ত্র ও টাকা লুটের ঘটনায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু করেছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রুমায় পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী  সোনালী ব্যাংকে হামলা চালিয়ে টাকা ও ১৪টি অস্ত্র লুট করে বলে জানান রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান।

শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির সদস্য সচিব রেভারেন্ট জারলম বম জানান, এই ঘটনার পর বুধবার শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির জরুরি বৈঠক হয়েছে।