ঢাকা, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪ | ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকারকে বাস্তবে রূপ দেয়ার আহ্বান সায়মার

সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকারকে বাস্তবে রূপ দেয়ার আহ্বান সায়মার

ফাইল ছবি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকারকে বাস্তবে রূপ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য মানবাধিকারের অধিকারকে এগিয়ে নিতে ডাব্লিউএইচও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে তিনি এই আহ্বান জানান।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই বছরের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হল ‘আমার স্বাস্থ্য, আমার অধিকার’ (মাই হেলথ, মাই রাইট)। বিশ্ব এখন রোগব্যাধি, বিপর্যয় থেকে সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ একাধিক সঙ্কটের মুখোমুখি। মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার উপলব্ধি করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকার উপলব্ধি করার অর্থ হল এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে প্রত্যেকে সর্বত্র উচ্চমানের স্বাস্থ্য সুবিধা, পরিষেবা এবং পণ্যগুলোর সুযোগ গ্রহণ করতে পারে যা জনগণের চাহিদা, বোঝাপড়া এবং মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেয়। এটি অধিকারের একটি সম্পূর্ণ সেটকে বোঝায় যা মানুষকে স্বাস্থ্যকরভাবে বাঁচতে সক্ষম করে। যেমন শিক্ষা, নিরাপদ পানি এবং খাদ্য, পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত বাসস্থান, ভাল কর্মসংস্থান, পরিবেশগত অবস্থা এবং তথ্য-যা সুস্বাস্থ্যের অন্তর্নিহিত নির্ধারক।’

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যের অধিকার পূরণের জন্য, স্বাস্থ্য সেবা এবং অন্তর্নিহিত নির্ধারক উভয়ই উপলব্ধ, প্রাপ্তিযোগ্য, গ্রহণযোগ্য এবং পর্যাপ্ত মানের হওয়া উচিত।

সায়মা ওয়াজেদ বলেন, ‘মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ অর্জনযোগ্য মান-অথবা স্বাস্থ্যের অধিকার বিশ্বব্যাপী এবং অঞ্চলে ‘হু’র মিশনের মূল বিষয়। এটা ডব্লিউএইচও-এর সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে, অগ্রগতি সত্ত্বেও, ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে সবার জন্য স্বাস্থ্যের অধিকারকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য আমাদের এখনও যথেষ্ট উপায় রয়েছে।’

ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যার প্রতিষ্ঠার ৭৬ তম বছর উদযাপন করার সাথে সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল স্বাস্থ্যের অধিকারের বিষয়ে অনেক অর্জন দেখেছে এবং অনেক কিছু উদযাপন করতে পারে।

ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ সার্ভিস কভারেজ সূচক ২০১০ সালে ৪৭ থেকে ২০২১ সালে ৬২-তে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে মেডিকেল, ডাক্তার, নার্স এবং মিডওয়াইফদের গড় ঘনত্ব প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার ২৮.০৫ এ দাঁড়িয়েছে।  যা ২০১৫ সালের পর থেকে ৩০.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অঞ্চলটি ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হারের অনুপাত হ্রাস পেয়েছে ৬৮.৫%। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার ২০০০ সালে প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে  ৮৪ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ২০২১ সালে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০০০ সালে নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৪১ জন থেকে  হ্রাস পেয়ে ২০২১ সালে দাঁড়িয়েছে ১৭ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ ২৫ শতাংশ এবং ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ৬২শতাংশ কমেছে।
স্বাস্থ্যের অধিকারের প্রতি বিশ্বব্যাপী প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এই অঞ্চলের প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলোর কভারেজের অভাব রয়েছে। সরকার গুলোর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ, যা স্বাস্থ্যের অধিকারকে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি হওয়া সত্বেও এটি অগ্রহণযোগ্যভাবে কম। যার ফলে চিকিৎসা ব্যয় বেশি হয়েছে। যার ফলে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে আর্থিক অসুবিধার সম্মুখীন পরিবারের অনুপাত বাড়ছে। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২১ সালে এই অঞ্চলে যক্ষায় মৃত্যুর হার ৮.৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। চারটি প্রধান রোগ- কার্ডিওভাসকুলার, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ থেকে ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সের মধ্যে মৃত্যু হার এখন ২১.৬ যা অগ্রহণযোগ্যভাবে উচ্চ হার। দরিদ্রতম এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধার সম্মুখীন হয়। প্রায়শই তাদের স্বাস্থ্য এবং সুস্থ্যতার জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দরিদ্র জীবন মানের কারণে তাদের যতেœর অভাব তাদের বেশি রোগ এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী। নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং একটি অগ্রাধিকার জনস্বাস্থ্য সমস্যা-ব্যাপক রয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, এই অঞ্চলের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন নারী তাদের জীবনে অন্তত একবার অন্তরঙ্গ সঙ্গীর সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন। যেখানে গ্রামীণ ও অশিক্ষিত মহিলারা এবং সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের লোকেরা উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চ ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। অনেকে এখনও টিবি, এইচআইভি/এইডস, অক্ষমতা বা মানসিক অসুস্থতার মতো কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থার সাথে কলঙ্কের সম্মুখীন হতে হয়। তারা তাদের লিঙ্গ, শ্রেণী, জাতি, ধর্ম, যৌন উন্মাদনা বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বৈষম্যের শিকার হয়। সাম্য এবং বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যের জন্য মানবাধিকার-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির মূল বিষয় মানবাধিকার-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে অংশগ্রহণের নীতিকে মেনে চলতে হয়। ভাল আইনগুলো আরও কার্যকরভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সুরক্ষা করতে পারে, উন্নত পুষ্টি স্থূলতা এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ন্যায্য এবং সমান কাজের পরিস্থিতি এবং আরও অনেক কিছুর ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।

তিনি বলেন, সবার জন্য ভালো মানের স্বাস্থ্য সেবা আরও সহজলভ্য, গ্রহণযোগ্য করা দরকার। -বাসস।