ঢাকা, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪ | ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

জামালপুরে শুকনো মরিচের দাম মিলছে না: কৃষকের মাথায় হাত

জামালপুরে শুকনো মরিচের দাম মিলছে না: কৃষকের মাথায় হাত

ছবি: সংগৃহীত

ফিরোজ শাহ, জামালপুর: দূর থেকে দেখে মনে হবে যেন লাল কোন মানচিত্র, মাঠে ভাগা দিয়ে দিয়ে  শুকনা মরিচ বিছিয়ে রাখা হয়েছে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার এম এম ডিগ্রী কলেজ মাঠে এভাবেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মরিচ শুকাতে দিয়েছেন। এছাড়া রাস্তার পাশে ক্ষেতের ধারে ফাঁকা মাঠে সবখানে মরিচ শুকাতে দিয়েছেন কৃষকরা। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার এই উপজেলায় ৩৯৫ হেক্টর জমিতে মরিচের উৎপাদন হয়েছে। এবারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২০ মেট্রিক টন।  লোকা মাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি উৎপাদন হয়েছে। 

জানা গেছে, পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি ছিল এবং বিরূপ আবহাওয়া থাকায় ফলন ভালো হয়নি। প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে ২.০৫ মেট্রিক টন। উৎপাদন ভালো হলে ফলন হওয়ার কথা ২.৫০ মেট্রিক টন। এক বিঘা মাটিতে ৬ থেকে ৮ মণ শুকনা মরিচ ফলন হয়েছে।  ভালো ফলন হলে ১০ থেকে ১২ মণ মরিচ উৎপাদন হয়। 

উপজেলার বাহাদুরাবাদ, চুকাইবাড়ী, ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি মরিচ উৎপাদন হয়। মরিচের মান ধরন অনুযায়ী ৮  থেকে ১০ হাজার টাকা মন শুকনো  মরিচ বিক্রি হচ্ছে। দাম গত বছরের তুলনায় কম হওয়ায় চাষীদের মাথায় হাত। একদিকে ফলন কম অন্যদিকে দামও কম হওয়ায় দুইদিক থেকেই লোকসানে পতিত হয়েছেন কৃষকরা। 

উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের মরিচ চাষী মোহাম্মদ জাবেদ আলী, ওয়াজ কুরুনী, আনারুল ইসলাম, সাহেব মিয়া মরিচ চাষ করে এবার লাভবান হতে পারেননি। তারা বলেন, গত বছর মরিচের মণ ছিল ১২ থেকে ১৬হাজার টাকা ফলনও ভালো হয়েছিল। এবারের মরিচের ফলন কম দামেও অর্ধেক। এক বিঘা মাটির মরিচ চাষ করতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয় । কার্তিক মাস থেকে চৈত্র ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগে মরিচ ঘরে তুলতে। সার, কীটনাশকের দাম বেশি সে তুলনায় ফসলের দাম নেই। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর আজাদ গ্লোবাল টিভিকে বলেন, পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং আবহাওয়া অনুকূল না থাকাই এবার ফলন কম হয়েছে। তার ওপরেও দাম কম থাকায় কৃষকরা হতাশ।