ঢাকা, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪ | ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

মাগুরায় ‘ভুল চিকিৎসায়’ প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগে মামলা

মাগুরায় ‘ভুল চিকিৎসায়’ প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

মাগুরা প্রতিনিধি : ‘ভুল চিকিৎসায়’ শায়লা রহমান নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে মাগুরায় চার চিকিৎসকের নামে মামলা দায়ের হয়েছে।
সোমবার (৮ এপ্রিল) মাগুরা সদর আমলী আদালতে এ মামলা করেছেন ওই নারীর বাবা অ্যাডভোকেট মিজানুর ফিরোজ।

মামলায় মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. শফিউর রহমান, তার স্ত্রী ডা. জাফরিন আক্তার, একই হাসপাতালের ডা. অরুণ কান্তি ঘোষ এবং ঢাকার পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডা. অনোয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় বাদির অভিযোগ, মাগুরার হাজী আব্দুল হামিদ সড়কে লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচারের সময় খাদ্যনালি কেটে ফেলায় তিনি জটিল অবস্থায় পড়েন।  রোগীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে ডা. জাফরিন আক্তার তার স্বামী ডা. শফিউর রহমানকে কল দেন।

শফিউর ভোররাতে ওই ক্লিনিকে এলে তিনি, তার স্ত্রী জাফরিন ও ডা. অরুণ কান্তি ঘোষ রোগীর তলপেটসহ একাধিক স্থানে পুনরায় অস্ত্রোপচার চালান। এ সময় আরও রক্তক্ষরণ হলে ১১ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে রোগীর শরীরে দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ডা. শফিউর রহমান রোগীকে পরদিন শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে পুনরায় অচেতন করে অস্ত্রোপ্রচার  করেন। এ সময় রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে উল্লেখিত চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে বিধায় তাকে ঢাকার পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠাতে হবে।  

তাদের কথামত রোগীকে ঢাকা পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আইসিইউতে কিছুক্ষণ রাখার পর রোগীর মৃত্যু হয়।

বাদী মনে করেন, উল্লেখিত চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকার পপুলার হাসপাতালের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে আইনগত ব্যবস্থা এড়াতে ওই তিন চিকিৎসক পপুলার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অনোয়ার হোসেনকে দিয়ে কৌশলে মৃত্যুসনদ নেয়ার জন্য রোগীকে সেখানে স্থানান্তর করতে বলেন। যে কারণে মামলায় ডা. আনোয়ার হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে।

সোমবার মাগুরার সদর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ন কবীর অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী জানান।

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা সিভিল সার্জন শামীম কবির জানান, সিজার করার সময় এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

মামলার বাদি জানান, তার মেয়ে শায়লা রহমান সেতু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে পরীক্ষা দিয়েছেন।

এদিকে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দোষী চিকিৎসকদের বিচারের দাবিতে সোমবার মাগুরায় জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে মানববন্ধন ওসমাবেশ করা হয়েছে।