ঢাকা, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪ | ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ৯ জ্বিলকদ ১৪৪৫

আতঙ্ক-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে বান্দরবানবাসীর

আতঙ্ক-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে বান্দরবানবাসীর

গ্লোবাল টিভি ছবি

আবদুল হাকিম, বান্দরবান : বান্দরবানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫৩ জন কেএনএফ সদস্যকে আটক করেছে। এছাড়া রুমা উপজেলা সোনালী ব্যাংকের সহকারী ক্যাশিয়ারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উদ্ধার করা হয়েছে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও কেএনএফ’র ব্যবহৃত সরঞ্জাম।

এদিকে যৌথ অভিযানে আটক ৫৩ জনকে আদালতে তোলা হয়েছে। আটক ৫৩ জনের মধ্যে ১৮ জন নারী সদস্য রয়েছে। ৫৩ জনের মধ্যে অনেকেই কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সদস্য ও তাদের সহযোগী।

এদিকে যৌথ বাহিনীর অভিযান ও সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে বান্দরবানের রুম উপজেলার সাতটি পাড়া এখন জনশূন্য হয়ে পড়েছে। আতঙ্ক-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার লোকজন। মুনন্নুয়াম পাড়া, বাসলাং পাড়া, আর্থা পাড়া, ব্যাথেল পাড়া, মুলপি পাড়া, হেপি হিল, পাইন্দু পাড়ার প্রায় ২০০ পরিবার এখন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এলাকাগুলো এখন থমথমে।

অন্যদিকে রবিবার (৭ এপ্রিল) রাতে পুলিশ থানচি ও জেলা সদরের রেইচা ক্যাম্প থেকে তিনজন কেএনএফ সদস্য ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত গাড়ির চালককে আটক করেছে। আটকৃতদের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের সহকারী ক্যাশিয়ারের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম লালচিয়াম বম।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রুমা উপজেলার সেনাবাহিনী জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল কে. এম আরাফাত আমীন।

পুলিশি অভিযানে আটকরা হল- ভানন্নূন ময় বম, জেমেনিউ বম ও আমে লানচেও বম। এদের বাড়ি রুমা উপজেলার সিমত্লাংপি পাড়ায়। গ্রেপ্তার গাড়িচালক মো. কফিল উদ্দিন সাগর (২৮)। তার বাড়ি থানচিতে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী জানিয়েছেন, রুমা থেকে ৪৯ জন বান্দরবন থেকে তিনজন ও থানচি থেকে একজন সহ ৫৩ সন্ত্রাসকে আটক করে বান্দরবান জেলা সদরে নিয়ে আসা হয়েছে।

উপজেলাগুলোতে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বন্ধ রয়েছে সব ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। এছাড়া রুমা উপজেলায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সন্ধ্যার পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বাজারগুলো। সেখানকার লোকজন এখন আতঙ্ক উৎকণ্ঠের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।