রাজধানীর চার অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১ অক্টোবর) থেকে এটি কার্যকর হয়েছে।
ডিএনসিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মামুন-উল হাসানের স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছিল, শব্দদূষণ বিধিমালা, ২০০৬ এর বিধি-৪ অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হলো। বিষয়টি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর করা হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অক্টোবর মাস থেকে পুরো বছর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ হর্ন না বাজানোর বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। পরবর্তিতে এই এলাকায় হর্ন বাজালে আইনগত ব্যবস্থা নেবে ডিএনসিসি।
এর আগে, ঢাকায় নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষিত অন্যান্য এলাকাগুলো হচ্ছে- হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশ (বিমানবন্দরের উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা), সচিবালয়, আগারগাঁও, সংসদ ভবন এলাকা ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। কিন্তু এসব এলাকার কোথাও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নেই।
যদিও শব্দদূষণ একটি গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে বাংলাদেশে চিহ্নিত। বিশেষ করে, ঢাকা শহরের অধিকাংশ এলাকায় শব্দ গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি। শব্দের প্রধান উৎস যানবাহন। এর হর্ন, ইঞ্জিন ও চাকার কম্পন মূলত দূষণের জন্য বেশি দায়ী। এছাড়া আছে নির্মাণকাজ বা ইট ও পাথর ভাঙার শব্দ, কলকারখানা, জেনারেটর এবং সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাইকিং।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতের ৪৫ ডেসিবেল সহনীয়। আর বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবেল এবং শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১- এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় শব্দের আদর্শ মান দিনে ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪০ ডেসিবেল। অতিরিক্ত শব্দ হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।