ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ৯ মাঘ ১৪৩২ | ২ শা‘বান ১৪৪৭

শিরোনাম

এসএমই পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজার খুঁজতে হবে: শিল্প উপদেষ্টা

এসএমই পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজার খুঁজতে হবে: শিল্প উপদেষ্টা

শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, আমাদের নিজস্ব একটি শক্তিশালী বাজার যেমন তৈরি হবে, তেমনি নতুন নতুন বাজারও খুঁজে বের করতে হবে। কোন দেশে কোন ধরনের পণ্যের বেশি চাহিদা আছে, কোথায় আমাদের পণ্য দিয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব-এসব বিষয়ে নিয়মিত অনুসন্ধান করা জরুরি। নতুন বাজার খুঁজে সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে পণ্যে বৈচিত্র আনা প্রয়োজন, যেন ভিন্ন ভিন্ন বাজারে প্রতিযোগিতা করে আমরা আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারি।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ৮ দিনব্যাপী এসএমই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন,শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান ও এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদ সদস্য ও উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পরিচালক পর্ষদ সদস্য ও ১২তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সামিম আহমেদ।

শিল্প উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প তথা এসএমই’র গুরুত্ব অপরিসীম। এসএমই খাতের বিকাশের মাধ্যমে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচন ও সুষম উন্নয়ন সম্ভব। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে শহরের সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিতে জাতীয় এবং স্থানীয়ভাবে টেকসই শিল্পখাতের বিকাশ জরুরি। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ৯৯ শতাংশ শিল্পই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারিখাতের অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে বৃহৎ ও ভারী শিল্পের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এসএমই হলো সবচেয়ে শ্রমঘন ও স্বল্পপুঁজি নির্ভর খাত। এই খাতের মাধ্যমে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, যত্রতত্র শিল্প-কারখানা স্থাপন না করে নির্ধারিত জায়গায় শিল্প স্থাপন করতে হবে। এতে উদ্যোক্তারা আরও বেশি সুবিধা পাবেন ও ব্যবসা পরিচালনাও শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় আমাদের সবার সচেতন থাকতে হবে। শিল্পনগরীগুলোতে থাকা জলাধারগুলোকে দৃষ্টিনন্দনভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে হবে। শিল্পবর্জ্য যেন জলাধারে প্রবেশ না করে, সে বিষয়ে শিল্প মালিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এসএমই উদ্যোক্তা গ্রুপ, ক্লাস্টার ও বিভিন্ন সাব-সেক্টরের উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে জামানতবিহীন ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতা করতে পারছে ও নতুন বাজার সৃষ্টি করতে সমর্থ হচ্ছে। ফাউন্ডেশনের এ কার্যক্রম আরও জোরদার করে অধিক সংখ্যক উদ্যোক্তাকে এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। দেশের এসএমই খাতকে আরও গতিশীল ও এর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এসএমই ফাউন্ডেশনকে কাঠামোগতভাবে সুদৃঢ় ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে বাজেট, মানবসম্পদ, গবেষণা সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।