অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, ভ্যাট ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যেন আদায়কৃত অর্থ যথাযথভাবে সরকারের কোষাগারে পৌঁছায়। আমাদের দেশে একটা দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে ভ্যাট আদায় হলেও সরকারের কোষাগারে অনেক সময় পৌঁছায় না। বিদেশে ভ্যাট দেওয়া ছাড়া ক্রয় করা যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে সব স্থানে ভ্যাটের বিষয়টি পৌঁছায়নি।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এমন এসব কথা বলেন। এদিকে ‘সময়মত নিবন্ধন নেব, সঠিকভাবে ভ্যাট দেব’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের সব বিভাগীয় শহর ও কমিশনার কার্যালয়ে উদযাপন হচ্ছে জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, আন্তর্জাতিক চেম্বার অফ কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হলেন মাহবুবুর রহমান, এফআইসিসিআইর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আজমান।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, উন্নয়নের জন্য ভ্যাট একটি মডার্ন সিস্টেম। এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। জিডিপির তুলনায় ভ্যাট তেমন নেই। কর জিডিপি এত কম। সরকারের সম্পদ না বাড়ালে কাজ করবো কীভাবে? রাজস্ব বাড়াতে হবে। কোনো কোনো দেশে কর জিডিপি অনুপাত ২৬ শতাংশের কারণে সে দেশ সেবা পায়। আমাদের দেশে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যেমন– আমাদের দেশে যদি হাসপাতাল ও শিক্ষায় সেবা পাওয়া যায়, তাহলে মানুষ স্বেচ্ছায় রাজস্ব দিতে এগিয়ে আসবে। এনবিআরকে বলবো পরিধি বাড়ান, আধুনিকায়ন করেন। সম্পূরক ডিউটি কমান। না হলে বেশি আগানো যাবে না। কর দিলাম, সেবা পাবো না। কর দিলে কী লাভ হলো এই প্রশ্ন যেন করতে না পারে। সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে ও থাকবে।
সালেহউদ্দীন আহমেদ বলেন, ধারের টাকায় অর্থনীতি এগোবে না, দেশের উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানোই একমাত্র টেকসই পথ। দেশে উন্নয়নের নামে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে না। দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিকল্প নেই। দেশের সম্পদ না বাড়ালে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। ব্যক্তি পর্যায়ে কর ও ভ্যাট প্রদানকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তবে অর্থনীতিকে টেকসই করতে ভ্যাটের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল না হয়ে আয়ের করভিত্তিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।