অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনতে তৈরি পোশাক শিল্পের (আরএমজি) মতো অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতেও সমপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। বেসরকারি খাতের বিকাশের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর ও এফবিসিসিআই’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শ কমিটির ৪৬তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও স্বর্ণ ও হীরা শিল্পসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত এখনও পিছিয়ে রয়েছে। এসব খাত থেকে প্রস্তাব এলে তৈরি পোশাক শিল্পের সমান সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। চুরির আশঙ্কায় কোনো খাতকে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না; বরং সমস্যার সমাধান করেই ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হবে। বন্দরগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ব্যবসায়ীদের যেসব জায়গায় বাধার সম্মুখীন হতে হয়, তা চিহ্নিত করে জানাতে বলেন। সরকার দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সংস্কারে সময় প্রয়োজন। দারিদ্র্য বিমোচন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বড় ও গুণগত বাজেট প্রণয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালু এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতা ও কর্মকর্তাদের সরাসরি সংযোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এতে দুর্নীতি হ্রাস পাবে। এ সংক্রান্ত একটি ডিজিটাল প্রকল্প ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারগুলোর সহযোগিতা কামনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা এখনও করের আওতার বাইরে থেকে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে, তাদের কর জালের আওতায় আনতে ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রয়োজন। সরকার পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি নয়, বরং অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণে বিশ্বাসী, যেখানে সকল ব্যবসায়ী সমান সুযোগ পাবেন।
—এজেড