কিডনি পরিষ্কারে সহায়তা করে যেসব ভেষজ: সুস্থতায় দরকার বাড়তি যত্ন
আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার খাই, তা থেকে আসা বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন দ্বারা আমাদের কিডনি ক্রমাগত আক্রান্ত হয়। আমাদের শরীর ক্ষতিকারক এসব উপাদান থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যতক্ষণ না শারীরিক কোনো সমস্যা জটিল আকার ধারণ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কিডনির সুস্থতার দিকে সেভাবে মনোযোগ দিই না। যদিও কিডনিকে শরীরের মূল ‘পরিস্কারক অঙ্গ’ বা ফিল্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তারপরও শরীরের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিকে স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে মাঝে মাঝে বাইরের কিছু প্রাকৃতিক সাহায্যের প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, কিডনি পরিষ্কার বা ডিটক্সিফাই করার অন্যতম সেরা ও নিরাপদ উপায় হচ্ছে প্রাকৃতিক ভেষজের সঠিক ব্যবহার। কিডনি সুস্থ ও সচল রাখতে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় কয়েকটি ভেষজ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। যেমন—
ফরিদপুরে সং'ঘ'র্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ২৫ জন আ'হত | Global TV News
১. পার্সলে পাতা
পার্সলে পাতা শরীরে প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক (Diuretic) হিসেবে চমৎকার কাজ করে। কিডনিতে জমে থাকা যেকোনো ধরনের বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে দিতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। এই ভেষজটি ব্যবহারের নিয়ম হলো— ফুটন্ত গরম পানিতে কিছুটা থেঁতো করা পার্সলে পাতা যোগ করুন। এরপর কাপটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে প্রায় ৫ থেকে ৭ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। পাতাগুলোর নির্যাস পানিতে ভালোভাবে মিশে গেলে তা ছেঁকে নিয়ে কুসুম গরম অবস্থায় পান করুন।
২. সেলারি
পার্সলে পাতার মতো সেলারিতেও রয়েছে শক্তিশালী মূত্রবর্ধক বৈশিষ্ট্য। নিয়মিত সেলারি খেলে শরীরে জমে থাকা যেকোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষাক্ত উপাদান প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে সহজে বের হয়ে যায়। সেলারি খাওয়ার আরেকটি বড় সুবিধা হলো, এতে এমন কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা সরাসরি কিডনির কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। নিয়মিত সেলারি গ্রহণ করলে তা কিডনিতে পাথর জমা হওয়া এবং অন্যান্য জটিল সংক্রমণ প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
৩. হলুদ
কিডনি সুরক্ষায় ও এটি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে হলুদের ব্যবহার অত্যন্ত প্রাচীন ও কার্যকর একটি উপায়। এটি শুধু কিডনি পরিষ্কারই করে না, বরং একই সাথে লিভারকে ডিটক্সিফাই করতে এবং রক্ত বিশুদ্ধ করতেও সমান ভূমিকা রাখে। হলুদের আরেকটি বড় গুণ হলো, এতে রয়েছে উচ্চ মাত্রার প্রদাহ-বিরোধী (Anti-inflammatory) বৈশিষ্ট্য, যা কিডনির যেকোনো ধরনের প্রদাহ, ক্ষত এবং সংক্রমণ নিরাময়ে দারুণ সাহায্য করে।
ব্যবহার বিধি: এক কাপ হালকা গরম পানিতে এক চা চামচ কাঁচা হলুদের রস, এক চিমটি লাল মরিচের গুঁড়ো, আধা বা একটি আস্ত লেবুর রস এবং সামান্য মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে অন্তত একবার এই পানীয়টি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে।
৪. আদা
কিডনি সুস্থ ও পরিষ্কার রাখার জন্য আদাকে অন্যতম সেরা ভেষজ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি অত্যন্ত দ্রুত শরীর থেকে সব ধরনের টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সক্ষম। এছাড়া নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস রাখলে শরীরের হজমশক্তি যেমন উন্নত হয়, ঠিক তেমনি লিভারের কার্যকারিতাও সচল ও পরিষ্কার থাকে।
(তথ্যসূত্র: হেলদিবিল্ডার্জড)