শিরোনাম
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি

ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের জ্বর, নিরাময়ে করণীয়

রিপোর্টার / লেখক: গ্লোবাল টিভি বিডি | প্রকাশিত: 29 Jun 2026, 07:19 PM
ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের জ্বর, নিরাময়ে করণীয়

ডা. এম. এ. ওয়াহিদ

ভিডিও প্রতিবেদন

যে কোন মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের ঘোষণা | Global TV News

ঋতু পরিবর্তন কিংবা যেকোনো সাধারণ ইনফেকশন, শিশুদের জ্বরে আক্রান্ত হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি চিত্র। তবে শিশুর শরীর সামান্য গরম মনে হতেই অনেক মা-বাবা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং তাপমাত্রা না মেপেই তাড়াহুড়ো করে প্যারাসিটামল খাইয়ে দেন। চিকিৎসকদের মতে, এই প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় এবং শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

  • কখন এবং কীভাবে প্যারাসিটামল প্রয়োগ করবেন? 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের গাইডলাইন অনুযায়ী, শরীরের তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি না হলে প্যারাসিটামল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মনে রাখা জরুরি, শিশুদের ক্ষেত্রে এই ওষুধের মাত্রা নির্ধারিত হয় শিশুর ওজনের ভিত্তিতে, বয়সের ভিত্তিতে নয়। সাধারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রায় ১৫ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল প্রয়োজন হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্রায় ৮ কেজি ওজনের একটি শিশুর জন্য প্রতি বারের ডোজ হলো এক চা-চামচ বা পাঁচ মিলিলিটার সিরাপ। আর ১৬ কেজি ওজনের শিশুর জন্য তা দ্বিগুণ, অর্থাৎ দুই চা-চামচ। এই সিরাপ প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর, দিনে সর্বোচ্চ চারবার দেওয়া যায়। যদি জ্বর ১০২ ডিগ্রি বা তার বেশি হয় এবং শিশু মুখে সিরাপ খাওয়ার অবস্থায় না থাকে, তবে ওজন অনুযায়ী পায়ুপথে সাপোজিটরি দেওয়া যেতে পারে; যা প্রতি আট ঘণ্টা অন্তর এক দিনে সর্বোচ্চ তিনবার প্রয়োগযোগ্য।

  • অতিরিক্ত প্যারাসিটামলের চিকিৎসাগত ঝুঁকি 

অনেকেই প্যারাসিটামলকে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করে নিজের ইচ্ছামতো বারবার এটি প্রয়োগ করেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান না মেনে বা অতিরিক্ত মাত্রায় প্যারাসিটামল দিলে তা শিশুর লিভার ও কিডনির স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। ওভারডোজের কারণে শিশুর শরীরে র‍্যাশ, ফুসকুড়ি, মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘুম, খিঁচুনি বা জন্ডিসের মতো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

  • অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে মারাত্মক বিভ্রান্তি 

আমাদের সমাজে আরেকটি বড় ভুল ধারণা হলো, জ্বর হলেই দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। বাস্তবতা হলো, শিশুদের অধিকাংশ জ্বরের মূল কারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকাই নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, জ্বর আসলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়ারই একটি অংশ, যা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে।
অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করলে তা কেবল শিশুর শরীরের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্যই নষ্ট করে না, বরং ভবিষ্যতে শরীরে 'অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স' বা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এর ফলে পরবর্তীতে শিশু যখন সত্যিই কোনো গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হবে, তখন সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক আর তার শরীরে কাজ করবে না, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে জটিল করে তোলে।

  • অভিভাবকদের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ 

শিশুর জ্বর হলে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে থার্মোমিটার দিয়ে সঠিক তাপমাত্রা মেপে দেখতে হবে। তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রির নিচে থাকলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর স্পঞ্জিং বা গা মুছিয়ে দিতে হবে। ১০১ ডিগ্রি বা তার বেশি হলে সঠিক ওজনের মাপে প্যারাসিটামল দিতে হবে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা যাবে না।
জ্বর যদি তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, অথবা শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, খিঁচুনি কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত একজন নিবন্ধিত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই একমাত্র নিরাপদ উপায়।

লেখক: প্রাক্তন পরিচালক, ডিজিএইচএস