শিরোনাম
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি

শেখ হাসিনার কাছে বড় ছিল তার পরিবার এবং দল: রিজভী

রিপোর্টার / লেখক: গ্লোবাল টিভি বিডি | প্রকাশিত: 03 Jul 2026, 07:14 PM
শেখ হাসিনার কাছে বড় ছিল তার পরিবার এবং দল: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার কাছে হিন্দু-মুসলমান বা ধর্ম বড় ছিল না, তার কাছে বড় ছিল তার পরিবার এবং দল। এর বাইরে উনাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। যদি অস্তিত্ব থাকত, তাহলে তপন মিত্রের চাকরি কেন চলে গেল? উনার তো সচিব হওয়ার কথা ছিল, অথবা ডেপুটি সেক্রেটারি বা জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আপনাদের চাকরি নাই, কারণ উনারা জাতীয়তাবাদী শক্তির সাথে সম্পর্কিত। খালেদা জিয়া বিজন দাদার মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়েছিলেন— এটাই হচ্ছে তার অপরাধ। এই কারণে সে আর বাংলাদেশে থাকতে পারবে না, তপনদা বাংলাদেশে থাকতে পারবে না। এটা শুধু আপনাদের একটা উদাহরণ হিসেবে বললাম, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর  ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ওই নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় আয়োজিত প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপিসহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু সহ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

রিজভী বলেন, অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে আজকে আমরা একটি মুক্ত পরিবেশে নির্বিধায় সবার কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। যার মনে যা আছে, সেই কথা বলার স্বাধীনতা অনেকদিন পর এসেছে। একটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা যে পরিবেশ পেয়েছি, সেই পরিবেশে এই কথা বলা নিশ্চিত হয়েছে। নিশ্চিত হয়েছে সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোটাধিকার, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।

সব ধর্মের মানুষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রিজভী বলেন, আমরা একই ভূখণ্ডের মানুষ ও জনগোষ্ঠী। আমাদের স্বাধীন সত্তা বিনির্মাণের জন্য একসাথে লড়াই করা ও আত্মত্যাগ করা মানুষ। এদের মধ্যে যেমন মুসলমান ছিল, তেমনি হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ছিল। সবাই মিলে এই জাতি ও গোষ্ঠী নির্মাণ করেছেন। অথচ বারবার একটি বিভাজনের রেখা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে—‘ওরা’ আর ‘আমরা’। এই ধরনের একটি প্রচেষ্টা বারবার করা হয়েছে, অথচ তারা জানত না যে, এই দেশের মাটিতে এটা কখনো সম্ভব নয়। হ্যাঁ, কৃত্রিমভাবে সংকট ও বিভাজন তৈরি করা যায়, কিন্তু আমাদের মনের উদারতা ও গভীরতা অনেক বেশি।

হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, চাকমা, ত্রিপুরা— সবাই মিলে এই ভূখণ্ডের অস্তিত্ব বলে রিজভী বলেন, স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য একসঙ্গে লড়াই করেছে। এই জাতি কখনো কোনো জাতীয়, আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক চক্রান্তের কাছে মাথা নত করেনি। আমাদের ভেতরের এই নিবিড় সম্পর্ককে তারা আগেও বিনষ্ট করতে পারেনি, এখনও পারেনি, যদিও নানাভাবে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চলে। ৫ই আগস্টে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি। সেদিন পিছনে বুলেটের মুখে হিন্দুও গুলি খেয়েছে, খ্রিস্টানও গুলি খেয়েছে, জুলাই আন্দোলনে সবাই মিলে দাঁড়িয়েছে। আশা করি, আমাদের এই পরস্পরের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধ কেউ নষ্ট করতে পারবে না। আমাদের এই স্বাধীন সত্তাকে রক্ষা করার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রত্যেকে একসাথে কাজ করে যাব। একসঙ্গে লড়াই করব, একসঙ্গে বিনির্মাণ করব, একসঙ্গে সৃষ্টি করব আর প্রয়োজনে একসঙ্গে প্রতিরোধ করব।

ভিডিও প্রতিবেদন

সরাসরি: ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা