শিরোনাম
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়, তিস্তাপাড়ে আনন্দের জোয়ার

রিপোর্টার / লেখক: গ্লোবাল টিভি বিডি | প্রকাশিত: 30 Jun 2026, 04:50 PM
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়, তিস্তাপাড়ে আনন্দের জোয়ার

 জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে বহুপ্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৯শে জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর এমন ঐতিহাসিক ও জোরালো ঘোষণার পর তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করে আসছেন, তাদের মাঝেও স্বস্তি নেমে এসেছে। জনপ্রতিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিস্তা নদী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতির খবর প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথেই তিস্তা উপকূলের সর্বস্তরের মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন। তারা অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রতি সদয় হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এর আগে সোমবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কথা জানান। দীর্ঘ এই সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক অর্থনীতি, কৃষি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, শিক্ষা এবং জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি বৈজ্ঞানিক উপায়ে ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচের পানি সরবরাহ পান, সেজন্য সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর পরপরই তিস্তা প্রসঙ্গে অত্যন্ত জোরালো ও দৃঢ় ভাষায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইনশাল্লাহ এই সরকার যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সংসদ সদস্যসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের পানি ও তিস্তা নদী নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে এবং এর একটি স্থায়ী সমাধানে বদ্ধপরিকর।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের পানির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দৃঢ় ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংসদ সদস্যরা, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের দুটি সবচেয়ে বড় কনসার্ন বা উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে পদ্মা ও তিস্তা নদী। সরকার এই দুই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল মুঠোফোনে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একটি কার্যকর পরিকল্পনার রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। জাতীয় বাজেটে যেহেতু তিস্তা নিয়ে এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই, তাই দ্রুত প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে তা পাসের মাধ্যমে বাস্তবায়নের মূল উদ্যোগ নিতে হবে।

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামছুজ্জামান সামু প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের সামগ্রিক আর্থসামাজিক অবস্থার এক অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে। তখন খরা মৌসুমে পানির জন্য যেমন হাহাকার করতে হবে না, তেমনি বর্ষায় দুই কূল প্লাবিত হওয়ার চিরচেনা দুঃখের দৃশ্যও আর দেখতে হবে না।

‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও’ সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই এই মহাপরিকল্পনাটি দ্রুত একনেক (ECNEC) বৈঠকে পাস করে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করা হোক।

একইভাবে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও কাউনিয়া উপজেলার আসাদুজ্জামানসহ সাধারণ নদীপাড়ের মানুষ আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদী ভাঙন ও বন্যার মাধ্যমে শত শত মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের মানুষের আজীবনের দুঃখ ঘুচবে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ৮০০ থেকে এক হাজার কিউসেকে এসে দাঁড়ায়। তখন তিস্তার চারিদিকে কেবল ধু-ধু বালুচর দেখা যায়। ভারত তিস্তার উজানে গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কারণে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পে প্রতিবছরই মারাত্মক পানির ঘাটতি দেখা দেয়। 

আবার বিপরীত চিত্র দেখা যায় বর্ষাকালে। এ সময় ভারতের পাহাড়ি ঢলে বিপৎসীমা অতিক্রম করে পানি প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে প্রায় ৪ লাখ কিউসেক হয়ে যায়। প্রবল পানির তোড়ে ডালিয়া ব্যারেজ ও আশপাশের অঞ্চল চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। তখন ডালিয়া ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট (গেট) দিনরাত ২৪ ঘণ্টা খুলে রেখেও অতিরিক্ত পানি সরানো কঠিন হয়ে পড়ে। 

সূত্র আরো জানায়, শুকনো মৌসুমে ভারতের পানির ওপর শতভাগ নির্ভরতা থাকার কারণে তিস্তা অববাহিকার ৫টি জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় পানির জন্য তীব্র হাহাকার দেখা দেয়। তবে তিস্তা নিয়ে সরকারের এই কাঙ্ক্ষিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুকনো মৌসুমে ভারতকে ছাড়াই নিজেদের সেচ কাজ চালানো যাবে, ভারতের কাছে পানির জন্য হাত পাততে হবে না। এ ছাড়া তিস্তা নদীকে ঘিরে প্রায় ১২০০ কিলোমিটারের বেশি শাখা খাল রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এসব খালে পানি ধরে রাখতে পারলে সারা বছর জুড়ে এই পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে। নদীতে বারো মাস পানি থাকলে কৃষিকাজ থেকে আরম্ভ করে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে। 

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এ অঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের প্রাণের দাবি এই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় প্রত্যয় ও ঘোষণা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত উত্তরবঙ্গের মানুষকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।

তিনি আরো যোগ করেন, আমাদের এই আন্দোলন মূলত এই অঞ্চলের মানুষকে অর্থনীতির দিক থেকে সমৃদ্ধ করবে, এমন একটি বড় প্রত্যাশা আমাদের ছিল। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মাধ্যমে সেই স্বপ্ন আজ পূরণের পথে। অবহেলিত মানুষের পক্ষ থেকে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

(তথ্যসূত্র: বাসস)

ভিডিও প্রতিবেদন

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড | Global TV News