শিরোনাম
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি

ভাইরাল ছোট মেয়েটির বাড়ী কোথায়, সজারু কে পোষ মানালো কিভাবে!

রিপোর্টার / লেখক: গ্লোবাল টিভি বিডি | প্রকাশিত: 30 Jun 2026, 11:38 AM
ভাইরাল ছোট মেয়েটির বাড়ী কোথায়, সজারু কে পোষ মানালো কিভাবে!

নজরকাড়া মায়ায় ভরা এক মুগ্ধকর দৃশ্য এরই মধ্যে তুমুল সাড়া ফেলেছে নেট দুনিয়ায়। অ্যানিমেটেড ছবি বা কার্টুনে অহরহ বন্যপ্রাণীর সাথে মানুষের এমন অবিশ্বাস্য বন্ধুত্ব দেখা গেলেও বাস্তবে তা বিরল। আর সত্যিকারের এই ছোট্ট ‘মুগলি’র সাথে সজারু আর গন্ধগোকুলের এই বন্ধুত্বের মিষ্টি মুহূর্তটি যেন সবাইকে নিয়ে গেছে কোনো এক রূপকথার গল্পে। যার মোহে গত দুদিন ধরেই মুগ্ধতার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই ছবিটির কার্টুন সংস্করণ বানিয়ে প্রকাশ করছেন। একই সাথে নেটিজেনদের কৌতূহল বেড়েছে—কোথায় এই মেয়েটির বাড়ি? কীভাবে শক্ত আর ধারালো কাঁটাওয়ালা সজারুর সাথে তার এমন গভীর বন্ধুত্ব হলো?

ভাইরাল হওয়া এই ছোট্ট মেয়েটিকে নেট দুনিয়ায় সবাই ডাকতে শুরু করেছে ‘ডিজনি প্রিন্সেস’ নামে। কেউ কেউ আবার তাকে মেলাচ্ছেন রুইডিয়ার্ড কিপলিং-এর বিখ্যাত গল্প ‘দ্য জঙ্গল বুক’-এর কাল্পনিক চরিত্র ‘মুগলি’র সাথে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো এক গ্রামীণ অঞ্চলের বলে ছড়ানো হলেও, প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিডিওটি মূলত শ্রীলঙ্কার উত্তর কেন্দ্রীয় প্রদেশের পোলোন্নারুয়া অঞ্চলের একটি গ্রামের। ভিডিওটি ধারণ করে ফেসবুকে প্রথম পোস্ট করেন মেয়েটির বাবা প্রভাত সিলভা। তিনি ক্যাপশনে সিংহলি ভাষায় লিখেছিলেন, "বড় বোনের সাথে খেতে (ধানক্ষেতে) যাচ্ছে ছোট সজারু ভাই।"

কিন্তু কীভাবে এই বিপজ্জনক সজারুকে পোষ মানালো তারা? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে মেয়েটির পরিবার। তারা জানিয়েছে, কিছুকাল আগে এই ছোট সজারুটিকে একদল হিংস্র কুকুর আক্রমণ করেছিল। কামড়ে তাকে রক্তাক্ত ও জখম করে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে রেখে যায় কুকুরগুলো। সে সময় মেয়েটি এবং তার পরিবার সজারুটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে নিজেদের বাড়ি নিয়ে আসে। পরিবারটির পরম যত্ন ও ভালোবাসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে বন্য প্রাণীটি। এমনকি তারা এই ছোট সজারুটিকে ফিডারে করে দুধ খাইয়ে বড় করে তুলেছে। এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কারণেই সজারু এবং গন্ধগোকুলটি মেয়েটি ও তার পরিবারের সাথে পুরোপুরি পোষ মেনে গেছে।

তবে তারা এই প্রাণীগুলোকে কোনো খাঁচায় আটকে রাখে না; এগুলো বন্য পরিবেশেই স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু মেয়েটি যখনই ঘর থেকে বাইরে বের হয়, সজারুটি তার পেছনে পেছনে একদম বিশ্বস্ত বডিগার্ডের মতো হেঁটে চলে। মূলত খাবার, নিরাপদ আশ্রয় এবং পরম যত্নের মাধ্যমেই মানুষের সাথে বন্য প্রাণী দুটির ভালোবাসার এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।

সাধারণত মানুষের ধারণা, সজারু তার গায়ের ধারালো কাঁটা দিয়ে মানুষকে সরাসরি আক্রমণ করতে পারে, যা বেশ বিপজ্জনক। তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সজারু বা গন্ধগোকুল স্বভাবগতভাবে তৃণভোজী বা সর্বভুক প্রাণী। সজারু কখনোই নিজে থেকে কোনো মানুষকে আক্রমণ করে না। সে কেবল তখনই গায়ের কাঁটা খাড়া করে বা আক্রমণাত্মক রূপ নেয়, যখন সে নিজে চরম বিপদে পড়ে কিংবা কোনো হিংস্র আক্রমণের শিকার হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যখন কোনো বন্যপ্রাণী একদম ছোটবেলা থেকে মানুষের কাছ থেকে পরম যত্ন ও ভালোবাসা পায়, তখন তাদের ভেতর থেকে সহজাত ভীতি বা আত্মরক্ষার সেই হিংস্র প্রবণতা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে একই সাথে তারা সতর্ক করে বলেছেন, বন্যপ্রাণী পোষ মানানোর বিষয়টি সবসময় সবার জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশেই বেড়ে উঠতে দেওয়া সবচেয়ে ভালো।

ভিডিও প্রতিবেদন

গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াতের | Global TV News

এসএফ