তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনের নামকরণে ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দটির বদলে ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষেধ’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দটির মধ্যে একটি ঢিলেঢালা ভাব থাকে, যা ‘প্রকাশ্যে নিষেধ’ শব্দটির মাধ্যমে কঠোর আইনি অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে তামাক বিরোধী সংগঠন ‘আত্মা’ (অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স) এবং ‘প্রজ্ঞা’ (প্রগতির জন্য জ্ঞান) যৌথ আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, এনটিভির হেড অব নিউজ জহিরুল আলম, চর্চা ডট কম-এর সম্পাদক সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক প্রমুখ। গোলটেবিল বৈঠকে তামাকবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কে আইনে পরিণত করার আশা প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের আমলেই বাংলাদেশ তামাক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চুক্তি এফসিটিসি-তে স্বাক্ষর করেছিল। ‘আমি ২০০৫ সালে যখন সংসদ সদস্য ছিলাম, তখনই ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০৫’ পাস হয়। আমি সেই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে গর্বিত।’
আসন্ন সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ উপস্থাপিত হবে। এর মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যাদেশ রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, এই আইনটির নামকরণে ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দের বদলে ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষেধ’ করার প্রস্তাব দেব। এটি আমার সংসদীয় এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে।’
আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে ‘আত্মা’ ও ‘প্রজ্ঞা’-কে একটি কার্যকর রূপরেখা বা গাইডলাইন তৈরির আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সরকারের সহযোগিতার জন্য একটি পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য তা বাস্তবায়ন সহজ হবে। আইনটি হওয়ার সাথে সাথেই একটি ‘পজিটিভ ইকোসিস্টেম’ ডেভেলপ করার জন্য আমি একটি ‘ক্রিয়েটিভ ক্যাম্পেইন’ করার নির্দেশ আমার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে রাখব। যাতে জনমত তৈরি হয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও সহজে এটি প্রয়োগ করতে পারে।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে অতীতের আবেগ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি না করে ‘ফিউচার হোপ’ বা আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছেন। আমাদের দল তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমরা তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।