জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেল কিংবা ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। বাজারেও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে দামও বাড়ার সম্ভাবনা নেই। সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিয়ে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলের সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। তবে প্যানিক বায়িংয়ের কারণে কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কেননা দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম বাড়বে না, ভোজ্যতেলের দাম এক টাকাও বাড়বে না। বাজারে নজরদারি চালাতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাই কাউকে অতিরিক্ত ভোজ্যতেল না কেনার আহ্বান রইল।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ স্টিফান লিল্যার বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রপ্তানি মো. আবদুর রহিম খান এবং ইউএনডিপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দক্ষ ট্রেড নেগোসিয়েটর তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি ও আলোচনায় কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ইউএনডিপির সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউএনডিপির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ বাংলাদেশের ট্রেড নেগোসিয়েশন, সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, কর্মশালা এবং জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে ইউএনডিপি কাজ করতে প্রস্তুত। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন।