ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ | ২ চৈত্র ১৪৩২ | ২৬ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার

ঢাকায় আত্মীয়স্বজন না থাকলে অর্থ–স্বর্ণালংকার থানায়ও রাখা যাবে

ঢাকায় আত্মীয়স্বজন না থাকলে অর্থ–স্বর্ণালংকার থানায়ও রাখা যাবে

ঈদুল ফিতরে ঢাকা ছাড়ার আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল বাসায় অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে আত্মীয়স্বজনের কাছে রেখে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বলেছেন, ঢাকায় কারও আত্মীয়স্বজন না থাকলে প্রয়োজনে এসব মূল্যবান জিনিস থানায়ও রাখা যেতে পারে। ঈদ সামনে রেখে নগরবাসীর যাত্রা নির্বিঘ্ন করাসহ ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা এবং ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মোঃ নজরুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোঃ মাসুদ করিম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

 

নগরবাসীর উদ্দেশে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার বা গুরুত্বপূর্ণ দলিল অরক্ষিত অবস্থায় রেখে যাবেন না। সম্ভব হলে আত্মীয়স্বজনের বাসায় রেখে যান। কারও যদি ঢাকায় আত্মীয়স্বজন না থাকে, সে ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে থানায়ও রেখে যেতে পারেন।

নগরবাসীকে বাসা ছাড়ার আগে দরজা–জানালা ঠিকমতো বন্ধ আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ পরীক্ষা করে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া বাসাবাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও পুরোনো ক্যামেরা সচল রাখার আহ্বান জানান। রাতের বেলায় বাসার আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার কথাও বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় ফাঁকা ঢাকায় অপরাধ প্রতিরোধে টহল কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীতে প্রতিদিন তিন শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ি দিয়ে মোবাইল প্যাট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে। রাতের বেলায় ৭০টির বেশি চেকপোস্ট বসানো রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফুট প্যাট্রোল চলছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে। রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশন ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমারদের তৎপরতা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চলছে। ঈদের দিন থেকে কয়েক দিন ফাঁকা ঢাকায় রেসিং বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ঠেকাতে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী থেকে আবদুল্লাহপুর ও গুলশান এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।