ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ
আদেশ ২১ জুলাই
প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৪ জুলাই দিন ধার্য করেছেন ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোর্ট পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্নীতির মামলায় রোববার সকালে আসামি মতিউরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে তার পক্ষে আবেদন করেন আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. বোরহান উদ্দিন।
অন্যদিকে দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং এক কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তী সময়ে এ মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মতিউর রহমান মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে এক কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
২০২৪ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে কুরবানির জন্য ছেলে ইফাতের ১৫ লাখ টাকার ছাগল কেনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে আসেন এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান। পরবর্তীতে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হলে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে আছেন তিনি।