শিরোনাম
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি

পাপনের সময়ে বিসিবির বিভিন্ন খরচের নথি তলব দুদকের

রিপোর্টার / লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: 05 Jul 2026, 09:10 PM
পাপনের সময়ে বিসিবির বিভিন্ন খরচের নথি তলব দুদকের

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সময়ে সংস্থার আয়-ব্যয়, উন্নয়নকাজসহ বিপিএল, মিডিয়া স্বত্ব, মুজিববর্ষ আয়োজন, বিদেশ সফর ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের খরচের বিস্তারিত রেকর্ড চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

রোববার (৫ জুলাই) দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম চিঠি পাঠানোর তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “নথিপত্র পাওয়ার পর তা যাচাই বাছাই করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।”

গত ১ জুলাই তিনটি চিঠিতে এসব রেকর্ড চেয়ে বিসিবিতে চিঠি পাঠিয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মো. সাইদুজ্জামান। চিঠি পাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রেকর্ডপত্রের ফটোকপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সত্যায়িত করে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠাতে বিসিবির সভাপতিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, নাজমুল হাসান পাপন কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী। তিনি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকও। তার এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ‘বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে’ বিসিবি ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ এবং পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে ‘জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত পাপনের জামাতা ও অন্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ‘হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের’ অভিযোগ থাকার কথাও নথিতে বলা হয়েছে।

দুদক রাজধানীর পূর্বাচলে বিসিবির স্টেডিয়াম নির্মাণের পরামর্শক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ার রেকর্ড চেয়েছে। এর মধ্যে পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপন, ইওআই ডকুমেন্ট অনুমোদনের চিঠি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্সিয়াল প্রস্তাব, যোগ্য বিবেচিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা, এলওআই, কার্যাদেশ, গোপনীয় আনুমানিক ব্যয় ও চুক্তির কপি রয়েছে। স্টেডিয়াম নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগের পদ্ধতি, অনুমোদিত টেন্ডার ডকুমেন্ট, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, সব দরপত্রের কপি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কার্যাদেশ, চুক্তি, ভূমি উন্নয়ন কাজের বিল পরিশোধের দলিল, ডিপিপি, প্রকল্প অনুমোদন, বিদেশ থেকে আমদানি করা মালপত্রের দলিল এবং জমি কেনা বা অধিগ্রহণের রেকর্ডও চাওয়া হয়েছে।

পাপনের দায়িত্বকালে বিসিবির আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবেদন, আইসিসি ও এসিসির লভ্যাংশ প্রদানের নীতিমালা, লজিস্টিকস ও প্রটোকল খরচ, বিপিএল বাবদ খরচ এবং বিদেশি কোচ নিয়োগের নীতিমালা ও বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত পরিচালনা পরিষদের সভা, খাতভিত্তিক খরচ এবং অডিট রিপোর্টের সত্যায়িত কপি দিতে হবে। বিসিবির মুজিববর্ষ উদযাপন, এ আর রহমানের কনসার্ট, ২০১৯ সালের বঙ্গবন্ধু বিপিএল এবং মুজিব শতবর্ষে বিপিএল আয়োজনের আয়-ব্যয়ের রেকর্ড ও নোটশিট দিতে বলা হয়েছে।

বিপিএলের তৃতীয় থেকে একাদশ আসর পর্যন্ত টিকিট বিক্রির টেন্ডার, দরপত্র, সেলিং এজেন্সির তালিকা, ভাউচার ও আর্থিক হিসাবও চেয়েছে কমিশন। কোন কোন মিডিয়া, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিসিবির মিডিয়া স্বত্ব বিক্রি করা হয়েছে, তাদের তালিকা, চুক্তি, নীতিমালা এবং আয়-ব্যয়ের রেকর্ড চেয়েছে দুদক। একই সময় টিকিটিং, টেন্ডার অ্যান্ড পার্চেজ, ফাইন্যান্স, লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিসিবির অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট এবং তদন্ত প্রতিবেদন থাকলে সেগুলোও দিতে বলা হয়েছে। দুদক বিসিবির অর্থায়নে বিদেশে ভ্রমণ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা, ব্যয় বিবরণী ও বিদেশ ভ্রমণ নীতিমালা চেয়েছে। ক্রিকেট ম্যাচে হেলিকপ্টার ব্যবহারের খরচ এবং বিসিবি সভাপতি হিসেবে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নীতিমালার রেকর্ডপত্রও চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিসিবির সভাপতি, পরিচালকসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও দায়িত্বকালের তথ্যও দিতে হবে। একই সময় থেকে বিসিবির এফডিআর, আইসিসি ও এসিসি থেকে মোট কত টাকা আয় হয়েছে তার বছরভিত্তিক হিসাব দিতে বলা হয়েছে। পাপনের দায়িত্বকালে বিসিবির বিভিন্ন আয়ের খাত থেকে কত টাকা বোর্ডের হিসাবে জমা হয়েছে, জমাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা, ব্যাংক হিসাব বিবরণী এবং সেই অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে তার রেকর্ডও চাওয়া হয়েছে।

২০১২ সালে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে টানা বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন পাপন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। ওই বছরের ২১ অগাস্ট বিসিবির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি।

ভিডিও প্রতিবেদন

শিক্ষকদের রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আইনুল ইসলাম | Global TV News