গাইবান্ধায় বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই তিস্তার পানি, ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন
গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আজই (২৯ জুন) সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার বিকেল ৩টা থেকে আজ সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গেল ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৭৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার ও গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি বিপৎসীমার ৪০৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বন্যার মৌসুমে পানি কমবেশির দোলাচল হলেও গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানিই এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ভাঙন সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দেখা দেয় ভাঙন। কোথাও কোথাও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চলমান পানি বৃদ্ধির প্রভাবে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙনের কথা জানিয়েছে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির ফলে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহের অব্যাহত ভাঙনের ফলে সদর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী অন্তত ৮ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ।
ভাঙনকবলিত এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর। এসব এলাকার অন্তত দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও দেড় শতাধিক বিঘা আবাদি জমি নদীতে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে।
অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলার ভাঙনকবলিত এলাকার মধ্যে রয়েছে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর ও চর চৌমোহন। চর চৌমোহনে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ইতোমধ্যে অন্তত দুই শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকশ বিঘা আবাদি জমি ও বিপুল সংখ্যাক গাছপালা। এ চরের ভাঙনের শিকার মানুষগুলো ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অনেকেই আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন নতুন কোনো চরে। এছাড়াও সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামেও নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, পানি বাড়ার সাথে সাথে জেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চল ও চরাঞ্চলে ২০ থেকে ২৫টি স্পটে ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে কাজ করছি।
Live। সংবাদ সারাদেশ। Sangbad Saradesh। News Bulletin। Today News । Global TV News
-এজেড