প্রাণহানি ১৭০০ ছাড়ালো, ধ্বংসস্তূপে এখনো চলছে জীবনের সন্ধান
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগের চারদিন পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও জীবিত উদ্ধার হচ্ছেন অনেকে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বলে অভিহিত করেছেন।
ভেনেজুয়েলা সরকারের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া দেশটিতে ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো কয়েক হাজার মানুষ।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাই জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সেই অতিবাহিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা কেউ যদি খাবার ও পানির নাগাল পেয়ে থাকেন, তবে অলৌকিকভাবে এখনো বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা। সেই আশাতেই অবিরাম চলছে তল্লাশি।
এদিকে উদ্ধারকাজের ধীরগতি এবং পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতির অভাবের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। স্বজনহারা অনেকেরই অভিযোগ প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মীর সংকটের কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা স্বজনদের জীবিত উদ্ধারের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রধান কম্পনের পর একের পর এক আফটারশকের কারণে নতুন আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার এই সামগ্রিক পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও ফ্লাইওভারের সার্বিক নিরাপত্তা মূল্যায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন’ গঠন করেছে দেশটির সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র ও আর্থিক খতিয়ান তুলে আনার কাজও সমান্তরালে চলছে।
ভেনেজুয়েলার এই চরম দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সহায়তাও জোরদার হয়েছে। মেক্সিকো, স্পেন, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ উদ্ধারকারী দল এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত উপদ্রুত এলাকাগুলোতে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার উদ্ধারকর্মী অত্যাধুনিক ড্রোন ও বিশেষায়িত সরঞ্জাম নিয়ে ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশে এখনো নিখোঁজ ও জীবিত মানুষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
চলন্ত অটোরিকশায় এলইডি মনিটর, বাজছে বলিউডের গান! | Global TV News
এসএফ