হামের প্রাদুর্ভাব রোধে এবং টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে রাজনীতিবিদদের ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জরুরি এই ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। রাজনীতিবিদরা তাদের সাংগঠনিক শক্তি ব্যবহার করে ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিলে এটি একটি বড় সুযোগ হিসেবে কাজ করবে। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের অবশ্যই টিকার আওতায় আনতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শুধু নিজের শিশুর জন্য নয়, বরং পুরো গোষ্ঠীর মধ্যে তৈরি করতে হবে। অন্তত ১০০ জনে ৯৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে হামের বৃহৎ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান ডা. এম এ মুহিত। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই কাজে সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে এবং সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে। একই অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়ার ওপর জোর দেন এবং ঢাকা উত্তরে হামের চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির জন্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।
বর্তমানে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে জরুরি টিকাদান চলছে। আজ থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনেও এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ২,৪৮৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ২৪ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৪৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ৯,৪৬৩ জন শিশু সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শ দিয়েছে যে, আগে টিকা নেওয়া থাকলেও ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া যাবে, তবে অসুস্থ বা হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের ক্ষেত্রে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া যাবে না।
এসএফ