ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৩ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

জ্বালানি নিয়ে সরকারের তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই

জ্বালানি নিয়ে সরকারের তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই

দেশের বর্তমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকটকে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বার্নিং ইস্যু হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে যে তথ্য দিচ্ছে তার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই এবং জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এই সংকটে চুপ থাকা সংসদ সদস্যদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য একটি মুলতবি প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের মানুষ প্রত্যাশা করছে এই সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা হবে। এটি এখন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। কিন্তু আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আলোচনা করতে পারছি না, এটা কি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য নয়? পত্রিকার রিপোর্ট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে আমি নিজে বাস্তবে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছি এবং দেখেছি সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংসদের প্রতিটি সেকেন্ড ব্যয় হচ্ছে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। এই প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ দিয়ে গড়া। আমরা এখানে নিজেদের প্রয়োজনে আসিনি, জনগণ তাদের প্রয়োজনে আমাদের পাঠিয়েছে। যদি জনগণের এই চরম দুর্ভোগের সময় তাদের কথাগুলো সংসদে বলতে না পারি, তবে এখানে থাকার কোনো সার্থকতা নেই।

সরকারের পরিসংখ্যান ও বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, আমি বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল খুঁজে পাইনি। একদিকে সংসদে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নেই, অন্যদিকে সংসদের বাইরে তেলের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। সংকট আছে বলেই আজ হাইকোর্টের মতো সংবেদনশীল জায়গায় ভার্চুয়ালি কাজ করতে হচ্ছে। সংকট না থাকলে এমন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো? আমরা বুঝি এটি একটি গ্লোবাল মেটার এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমস্যা হচ্ছে। আমরা বারবার বলছি আমরা সবাই মিলে এখানে কন্ট্রিবিউট করতে চাই। পরিস্থিতি সহজ করার জন্য আমাদের মতামত দিতে চাই। কিন্তু সব দায়িত্ব যদি শুধু সরকারি দলই পালন করে, তবে আমরা নাগরিক বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়বদ্ধতা পালন করব কীভাবে?

—এজেড