ঢাকা, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৭ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

ইসহাক সরকার

জীবনের যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো আমাকে কারাগারেই থাকতে হয়েছে

জীবনের যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো আমাকে কারাগারেই থাকতে হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিতে যোগ দেওয়া যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার বলেছেন, আমি যদিও বক্তা নই, আমি একজন বিপ্লবী। জীবনের যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো আমাকে কারাগারেই থাকতে হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর বিভিন্ন মেয়াদে আমি কারাগারে ছিলাম। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে অসংখ্য সহযোদ্ধা, সহকর্মীকে হারিয়েছি। আমি দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি- এই এনসিপির মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষের একমাত্র মুক্তি মিলবে। আমি মনে করি, এনসিপির মাধ্যমেই এ দেশে মুক্তির সনদ নির্দিষ্ট করা আছে। আমি দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি, আন্দোলন করেছি। আমার পরিবারের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা ছিল। শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে আমাদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। কিন্তু আমি কোনোদিন আপস করিনি, আপস করতে শিখিনি।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এনসিপিতে যোগ দেন তিনি। যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসহাক সরকার বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা এই দিন পেয়েছি, কথা বলার অধিকার পেয়েছি। যদি দেখি বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আবার একইভাবে ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে আমরা আবার রাজপথে নেমে আসবো। আপনাদের পতন ঘটাতে আমরা বেশি সময় নেবে না। সরকারকে আহ্বান করবো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিন, কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিন, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার ফিরিয়ে দিন। নতুবা আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও গণবিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাদের আমরা দেখেছি- এই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতে অনেক রক্ত, অনেক ত্যাগ, অনেক জীবনের মূল্যের বিনিময়ে ৩৬ জুলাই একটি ঐতিহাসিক গণবিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমরা যখন দেখেছিলাম ছাত্ররা রাজপথে নেমে এসেছিল, তখন আমি আমার নিজের তাগিদেই সেদিন আমাদের কর্মীবাহিনী নিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাজপথে নেমে এসেছিলাম।

তিনি বলেন, আমি যে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম, আজ দেখতে পাচ্ছি সেই দল তার গণতান্ত্রিক ধারা থেকে সরে গেছে। হয়তো তারা ভুলে গেছে ১৪০০ শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এ দেশে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। এই ছাত্রজনতাকে আর দমানো যাবে না। এখনো সময় আছে, আমি বলবো আপনারা ফিরে আসুন গণতান্ত্রিক ধারায়। ওসমান হাদি ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এখনো দেখতে পেলাম না এই সরকার সেই হত্যাকারীদের গ্রেফতার করেছে। পূর্বের সরকারও গ্রেফতার করেনি। কেন করেনি, কারা এর সঙ্গে জড়িত- সে প্রশ্ন আজও রয়ে গেছে। আমি আবার দেখতে পাচ্ছি, পূর্বের সেই অশুভ প্রভাব ফিরে আসছে। আমাদেরকে আবার আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে। আমি সব শাসনামলেই কারাগারে ছিলাম- বিএনপির সময়, আওয়ামী লীগের সময়- সব আমলেই। আমি সব শাসনামলে স্বৈরশাসন দেখেছি, সহ্য করেছি। কিন্তু কোনো বিদেশি শক্তি যদি বাংলাদেশের মাটিতে শাসন করতে চায়, সেই শাসন এ দেশের জনগণ কোনোদিন মেনে নেবে না। আমার পরিবারের ওপর অত্যাচার হয়েছে, জুলুম করা হয়েছে। তবুও আমার কারও প্রতি ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ নেই। আমি এই এনসিপির মাধ্যমে বুঝতে পেরেছি- এই দলের মাধ্যমেই এ দেশের জনগণের নিরাপত্তা, অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, আজ যদি ফ্যাসিবাদ টিকে থাকতো, যদি শেখ হাসিনা পালিয়ে না যেতেন, তাহলে হয়তো আমাদের জেলে পচতে হতো, অথবা ফাঁসির মঞ্চে ঝুলতে হতো। আমি মনে করি, সারাদেশের জনগণ এখনো এনসিপির দিকে তাকিয়ে আছে। এনসিপি রাজপথে নামলে জনগণের অধিকার ফিরে পাবে। আর যদি এনসিপি ঝিমিয়ে যায়, তাহলে দেশের মানুষের ভাগ্যে আবার অন্ধকার নেমে আসবে। তাই আমি প্রত্যেক কর্মীকে আহ্বান জানাই- উজ্জীবিত হয়ে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে আবার রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি সারাজীবন সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আমার ওপর যে দায়িত্বই অর্পণ করা হোক, আমি যেন তা ঈমান ও সততার সঙ্গে পালন করতে পারি। প্রয়োজনে জীবন বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত আছি। মনে রাখবেন, এ দেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। যদি সেই পরিবর্তন না আনা হয়, তবে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা তা আদায় করে নেবো ইনশাআল্লাহ। জনগণের রায়কে যারা ভুলে যেতে চায়, জনগণের অধিকার হরণ করতে চায়- তাদের বিরুদ্ধে আবারও লড়াই গড়ে তোলা হবে।

—এজেড