করের আওতা বাড়ানো, ভ্যাট ফাঁকি রোধ এবং কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখ টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) থাকলেও এর বিপরীতে সক্রিয় করদাতার সংখ্যা অনেক কম। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিনজিং অপারেশন’ চালিয়ে অকার্যকর বা অপ্রয়োজনীয় টিআইএন বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে যারা করযোগ্য আয় না থাকার কারণে টিআইএন নিয়েছেন, তাদেরও ডিরেজিস্ট্রেশন করা হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ কভার করা সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর ফাইলিং প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হলে যারা রিটার্ন দাখিল করবেন না, তাদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হবে। এতে নন-ফাইলারদের কর জালে আনা সহজ হবে।
ভ্যাট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি পণ্য উৎপাদন পর্যায় থেকেই ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হবে। ফ্যাক্টরি থেকে পণ্য বের হওয়ার সময় তা যেন কর রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। ভোক্তারা স্মার্টফোনের মাধ্যমে পণ্যের কিউআর কোড স্ক্যান করে ভ্যাট পরিশোধ হয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারবেন। ভ্যাট ফাঁকি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হবে এবং তথ্যদাতাদের পুরস্কৃত করা হবে। প্রাথমিকভাবে পানি, পানীয়, সাবান, শ্যাম্পুসহ ভোগ্যপণ্যে এই ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেসিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব পণ্যে এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রান্সফার প্রাইসিং বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৪ সালে আইন প্রণয়নের পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু থাকলেও দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে আলাদা মাস্টার ট্রান্সফার প্রাইসিং ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা আগামী বছর থেকে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্পোরেট কর ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে অনলাইন কর রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি ডাটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের একাধিকবার অগ্রিম কর (অ্যাডভান্স ট্যাক্স) পরিশোধের অভিযোগের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি বাস্তব এবং এটি কমানোর চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এবার তা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে, যা বিবেচনাধীন।যারা নিয়মিত কর দেন তারা তুলনামূলক বেশি কর দেন, আর যারা কর ফাঁকি দেন তারা প্রায় কিছুই দেন না। এই বৈষম্য দূর করাই আমাদের লক্ষ্য। বাজার অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কর প্রদানের একটি বেঞ্চমার্কিং পদ্ধতি চালুর বিষয়েও কাজ চলছে, যেন করদাতাদের মধ্যে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়। সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেটে কর আদায় বাড়ানো, করের আওতা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর জোর দেওয়া হবে।
—এজেড