ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ | ২ চৈত্র ১৪৩২ | ২৬ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম

বাণিজ্যমন্ত্রী

পাইকারি ও খুচরা বাজারের মূল্য তারতম্য অনুসন্ধানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি

পাইকারি ও খুচরা বাজারের মূল্য তারতম্য অনুসন্ধানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন,পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের দামের অযৌক্তিক ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে। 

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত “মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা। পরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দেরসঙ্গে মতবিনিময় করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো আমদানি নির্ভর দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বা পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়া স্বাভাবিক। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণজনিত কোনো কারণে যেন পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। কিছু ফল রয়েছে যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা প্রয়োজন, যেমন আপেল, আঙ্গুর ও কমলা। এসব ফলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার প্রয়োজনে নীতিগত পদক্ষেপ বিবেচনা করবে। তবে অত্যধিক দামী বিলাসী ফলের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তা নেই।

রমজান মাস উপলক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মাস ত্যাগ ও সংযমের মাস। তাই ব্যবসায়ীরা যদি মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেন, তবে তা সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। চলতি রমজান মাসে ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, যা গত কয়েক দশকের তুলনায় ইতিবাচক উদাহরণ। এজন্য পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে কোথাও কোথাও ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সীমিত বিক্রির অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত শোনার জন্যই খাতুনগঞ্জে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।