ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ | ২৬ চৈত্র ১৪৩২ | ২০ শাওয়াল ১৪৪৭

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে নীলুফার ইয়াসমিন (৪৮) নামে এক বাংলাদেশি নারীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে ডক্টর মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বুলেভার্ডে অবস্থিত একটি গ্যাস স্টেশনে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত নীলুফার ইয়াসমিন ওই এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশি মালিকানাধীন 'ডি অ্যান্ড ডি কনভিনিয়েন্স স্টোরে' ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী:

গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিন (৪০) দোকানের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে ব্যর্থ হয়ে নীলুফারের কাছে টাকা দাবি করেন। নীলুফার এটিএম মেশিনের দায়ভার নিতে অস্বীকার করলে জোয়াচিন ক্ষিপ্ত হয়ে চলে যান।

বৃহস্পতিবার ভোর ৭টা ১৪ মিনিটে জোয়াচিন পুনরায় ফিরে এসে প্রথমে নীলুফারের ব্যক্তিগত গাড়ির কাঁচ হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করেন। নীলুফার কারণ জানতে দোকান থেকে বেরিয়ে এলে জোয়াচিন ‘গিভ মি মাই মানি’ বলে চিৎকার করে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করেন।

হামলার পর ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসেস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ ম্যাঙ্গো এবং রেলি স্ট্রিট এলাকা থেকে অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের সময় ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় তিনটি স্কুল (সাকসেস একাডেমি, ইয়ং প্যারেন্ট এডুকেশন প্রোগ্রাম এবং জেমস স্টিফেনস এলিমেন্টারি) সাময়িকভাবে ‘লকডাউন’ করা হয়েছিল।

শুক্রবার জোয়াচিনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জামিনবিহীন আটক রাখার নির্দেশ দেন। বর্তমানে সে লি কাউন্টি জেলে বন্দি রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিহত নীলুফার ইয়াসমিনের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নে। তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকের বোন। মাত্র তিন মাস আগে তিনি এই দোকানে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৬ ও ২০ বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তানের জননী।

ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ বিভাগ তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই অপরাধীর বিষয়ে কারো কাছে অতিরিক্ত কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।