ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১২ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোট গ্রহণ শুরু

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোট গ্রহণ শুরু

বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়, চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আসনটিতে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই সঙ্গে তিনি ঢাকা-১৭ আসনেও বিজয়ী হন। পরে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শেরপুর-৩ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান। জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনে একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬ জন, নারী ২ লাখ ৮ হাজার ৩০৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭ জন। দুই উপজেলায় আছে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৩২টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৬৯টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ৭৫১টি।

শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান (ইনকোয়ারি) কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিমে ২০০-এর বেশি সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১১৫০ সদস্য মাঠে কাজ করছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে এই আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তাঁর ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী করেছে জামায়াত। বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল)। এ ছাড়া নির্বাচনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মিজানুর রহমান কাঁচি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাতিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দাস বলেন, এ কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ৭৮১ জন ভোটার রয়েছেন। ৯টি বুথে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সকালে উপস্থিতি কিছুটা কম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারসংখ্যা বাড়বে।

উল্লেখ্য, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ ৯ এপ্রিল এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনের ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে। পুরো জেলায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

বগুড়া-৬ আসনে মোট ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন ভোটার রয়েছেন। ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ১৫০টি কেন্দ্র। এছাড়া ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য একটি পৃথক কেন্দ্র রাখা হয়েছে, যেখানে ৩ হাজার ৭৩৬ জন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে ২৫০ জন সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৮ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাবের ১০টি টিম এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বগুড়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসন।

উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম (বাদশা) ধানের শীষ, জামায়াতের আবিদুর রহমান (সোহেল) দাঁড়িপাল্লা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার ফুলকপি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র। আর জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শহরের সেউজগাড়ী এলাকার ভোটার মোমেনা খাতুন বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো, আশা করি সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে এই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।

—এজেড