ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১১ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

বদিউল আলম মজুমদার

উপজেলা পরিষদে এমপিদের অফিস স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে ধ্বংস করবে

উপজেলা পরিষদে এমপিদের অফিস স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে ধ্বংস করবে

উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ‘এমপি রাজ’ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেবে। বিষয়টি সংবিধানের পরিপন্থী।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুজন আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার বিষয়ে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আদালতের রায় ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কবি সোহরাব হাসান, নাগরিক কোয়ালিশনের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, কবি লিলি হক।

ড. মজুমদার বলেন, সংসদ সদস্যদের কাজ জাতীয় সংসদে, স্থানীয় সরকারে নয়। কিন্তু পরোক্ষভাবে তাদের স্থানীয় সরকারের কাঠামোর মধ্যে যুক্ত করা সংবিধানের লঙ্ঘন। প্রত্যক্ষভাবে যা করা যায় না, পরোক্ষভাবে তা করার চেষ্টা, এটা রঙিন আইন বা প্রতারণামূলক ব্যবস্থা। স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে উপজেলা, উপজেলা চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ইউএনওদের এবং সংসদ সদস্যদেরও দ্বন্দ্ব আছে। সংসদ সদস্যদের পিঁড়িতে বসতে দিলে তারা পুরো পিঁড়ি দখল করবেন। তখন উপজেলার সব প্রতিষ্ঠান দলীয় নিয়ন্ত্রণে যাবে। এতে সরকার ও দলের মধ্যকার বিভাজন দূরীভূত হয়ে যাবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতি সরকারি ও বিরোধী দলনির্বিশেষে সব সংসদ সদস্যের স্বার্থপ্রণোদিত সমর্থন হতাশ করেছে। বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকারের মাধ্যমে গঠিত সংসদের কাছ থেকে আমরা অনেক ভালো কিছু আশা করেছিলাম।

জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আপনারা জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকারের বর্তমান এবং অন্যান্য সিদ্ধান্তকে মূল্যায়ন করুন এবং জনগণের দোরগোড়ার সরকারকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিন। সরকার যেন জনস্বার্থে কাজ করে, ভুল পথে যেন না যায়। সংসদ সদস্যদের বসার জায়গা নিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন এবং স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগ সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এগুলো আদালতের রায়, প্রচলিত আইনকানুন ও বিধিবিধানের পরিপন্থী এবং সুশাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের ভিত্তি, এই ভিত্তি দুর্বল হলে উপরিকাঠামো শক্তিশালী হবে না। প্রশাসক নিয়োগ ক্ষমতাসীন দলের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের পরিপন্থী। সরকারের কাছে প্রজ্ঞাপন বাতিলের আহ্বান জানিয়ে দ্রুত আইন পরিশীলিত করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় সরকারব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের সমান্তরাল একটি স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা হলেও বাংলাদেশে বাস্তবে এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। এখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই হয়ে গেছেন স্থানীয় সরকারের বস। কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় সরকারকে পাশ কাটানোর প্রবণতা দেখায়। স্থানীয় সরকার-সম্পর্কিত আইনগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব আইন পুরোনো, একে অপরের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ও স্ববিরোধী, যা আধুনিক সময়ের উপযোগী নয়। তাই নির্বাচনের আগে আইনগুলো পরিশীলিত, আধুনিক ও যুগোপযোগী করে পুনর্বিন্যাস করার প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুজন সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে সহায়তার আগ্রহও জানানো হয়েছে।

—এজেড