পরিচালনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারি ঘোষণার আগে স্পিডবোট ও অন্যান্য নৌযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবায় অস্থায়ীভাবে ভাড়া বাড়িয়েছে নৌযান মালিকরা। সরকারি নির্দেশ না থাকলেও বাড়তি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন উপকূলীয় ও পার্বত্য নৌরুটে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে,জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকেই নৌযান পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় নৌযান মালিক সংগঠন ও নৌযান পরিচালনায় নিয়োজিত ইজারাদার প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়া বাড়ানোর জন্য চিঠি দিয়েছে। এসব চিঠি বিআইডব্লিউটির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আজ বৈঠকের মাধ্যমে নৌযানের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নৌযান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন,জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে নৌযান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় সব খরচই বেড়েছে। চালক ও কর্মচারীদের বেতন,নৌযানের রক্ষণাবেক্ষণ,যন্ত্রাংশ,মবিল,ঘাট ফি—এমনকি দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে।ফলে আগের ভাড়ায় সেবা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না।এ কারণে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নৌযানের ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।দ্রুত ভাড়া সমন্বয় না হলে নৌরুটে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,গত ১৯ এপ্রিল থেকে স্পিডবোট ভাড়া ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৩৫০ টাকায় যাত্রী পরিবহন শুরু করা হয়। আকস্মিক ভাড়া বৃদ্ধিতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমাকে আপৎকালীন ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে গণশুনানির অনুরোধ জানান।
২০ এপ্রিল বিআইডব্লিউটিএর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ২৮০, ৩০০ ও ৩২০ টাকা প্রস্তাব করা হয়। পরে সর্বসম্মতিক্রমে সরকারি ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যদিও এ রুটের ভাড়া সরকারি গেজেটে ২৭০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে স্প্রিডবোট জগলুল নয়ন বলেন,তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নৌযান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের খরচ বেড়ে গেছে।পরিবহন ভাড়া, মবিল,পার্টসসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএকে জানিয়েছি। স্পিডবোটগুলো ৫০ টাকা বাড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করছে।দ্রুত ভাড়া না বাড়ালে অনেক রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (বন্দর ও নৌ-পরিবহন) নয়ন শীল বলেন,জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিভিন্ন নৌরুটের মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করেছে। আমরা সব আবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছি। মালিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ভাড়া সমন্বয় করা হবে। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়াই নৌযান মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে পরিচালনা করছে এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
—এজেড