দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে কার্প–জাতীয় মা মাছ প্রথম দফায় ডিম ছেড়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে বজ্রপাত সহ ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে বুধবার রাতে নদীতে নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ। এ সময় অনুকূল পরিবেশ বিরাজ থাকায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে প্রথম দফায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ।
এদিকে নদীতে মা মাছের ডিম ছাড়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে জাল, নোঙরসহ ডিম সংগ্রহের সরঞ্জাম নিয়ে হালদা নদীর আজিমের ঘাট, নতুনহাট, আমতুয়া, মাছুয়াঘোনা, রামদাস মুন্সীর হাট, নাপিতেরঘাট, সোনাইরমুখ, গরদুয়ারা, অংকুরিঘোনাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তিন শতাধিক নৌকাযোগে অবস্থান নেন সাড়ে ছয় শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী। েনদীতে নোঙর ফেলে জাল পেতে ডিম সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে উঠেন ডিম সংগ্রহকারীরা।
নদীর আজিমের ঘাট এলাকার ডিম সংগ্রহকারী শফিউল আলম দুপুর দুইটার সময় জানান, দুই নৌকায় দুই বালতি ডিম সংগ্রহ করেছেন তিনি। একই এলাকার ডিম সংগ্রহকারী মোহামামদ আনোয়ার জানান, দুই নৌকায় ৬ বালতি ডিম সংগ্রহ করে। হাটহাজারী উপজেলার ডিম সংগ্রহ কারী কামরুল ইসলাম জানান, এক নৌকায় দেড় বালতি ডিম সংগ্রহ করেছে। গড়দুয়ারা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী কামাল উদ্দিন জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে বজ্রপাতসহ পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হলে রাতে নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় মা মাছ পুরোপুরি ডিম ছাড়তে শুরু করে। এ সময় নদীর হাটহাজারী ও রাউজান অংশে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এই বিষয়ে হালদা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মা মাছের ডিম ছাড়ার পূর্ণিমার জোঁ শুরু হয় ২৯ শে এপ্রিল থেকে যা চলবে ৩ মে পর্যন্ত। এই জোঁ'তে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢল হালদায় নেমে আসে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। যার দরুণ বুধবার রাতে কয়েকটি স্থানে ১/২ টি ডিম পাওয়া যায়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে জোয়ারের সময় হালদা নদীর আজিমারঘাট ও তার নিচে অংশে কার্পজাতীয় মা মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে। তবে এখনো পূরোদমে ডিম ছাড়েনি মা মাছ। যেহেতু পূর্ণিমার জোঁ চলছে তার আজ রাতে বৃষ্টিপাত হলে পুরোদমে ডিম ছাড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
রাউজান সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম বলেন, বুধবার রাতে নমুনা ডিম ছাড়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে হালদা নদীতে ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম সংগ্রহ করতে শুরু করে। তবে যে কোনো সময় পুরোদমে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে। তবে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসার সালমা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নদীতে কার্পজাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ার সংবাদ পেয়ে আমরা হালদা নদীতে অবস্থান করছি। ডিম সংগ্রহকারীদের জালে পরিমাণে অল্প হলেও ডিম সংগ্রহ হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ বিরাজমান থাকলে রাতে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা আছে। ডিম পরিস্ফুটনের জন্য রাউজান ও হাটহাজারীর সরকারি ছয়টি হ্যাচারির মধ্যে চারটি সম্পূর্ণ প্রম্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আইডিএফের একটি হ্যাচারিও প্রস্তুত আছে।
-এজেড