ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণে অনিবার্য হয়ে উঠে মুক্তিযুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, তিনি বলেছেন, সরকারি দলের অনেকে ৭২ এর সংবিধানকে সম্মান করেন। এটি করতে পারেন না। কারণ ৭২ এর সংবিধান পরিবর্তন করে গেছেন জিয়াউর রহমান। আর আমাদের এমনভাবে বলা হয়, যেন আমরা সংবিধান মানি না। কিন্তু যতক্ষণ এই সংবিধান আছে, পরিবর্তনের আন্দোলন করতে পারি, কিন্তু বিদ্রোহ করবো না। একজন নাগরিক হিসেবে এইটাই আমার দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেনস্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোট পেলেও সেই জনমতের যথাযথ সম্মান দেয়নি। পাকিস্তান সরকার যেমন ভোটের ফল অস্বীকার করেছিল, তেমনি আওয়ামী লীগও পরে সেই ভোটের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যে ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণে অনিবার্য হয়ে উঠল মুক্তিযুদ্ধ। তারাই সেই ভোটটাকে আবার গলা টিপে হত্যা করলেন।
বাকশাল ও ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে পরিবর্তন এনেছেন, তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৭২-এর সংবিধানে ফেরার প্রশ্ন তোলাও যৌক্তিক নয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গল্প শুনতে শুনতে এই মানুষগুলো ক্লান্ত। এখন আর গল্প শুনতে চায় না, তারা পদক্ষেপ দেখতে চায়। নির্বাচনের সময় আমরা কথা দিয়েছিলাম, কে সরকারে আসবে না আসবে, তা আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করবেন। আমরা যদি সেই সুযোগ পাই, আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে তিস্তা নদীতে প্রথম কোদাল কোপ দেওয়া। এখান থেকেই কাজ শুরু করবো।
জামায়াত আমির বলেন, সারা বাংলাদেশ কমবেশি ঘোরার সুযোগ হয়েছে। সত্যি বলতে, তিস্তাপাড়ের মানুষগুলোর মতো এত দুর্ভাগ্যপীড়িত মানুষ আমি দেশের আর কোথাও দেখিনি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আমার কৃষক পিতাকে স্মরণ করি। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গ্রামের কৃষক। আমি কোনো বিলাসবহুল পরিবেশে জন্ম নেইনি; আমি অভুক্ত মানুষের সংগ্রাম দেখেই বড় হয়েছি। চৈত্র আর কার্তিক মাসে মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি হতো। তখন মানুষ বাংলা মাস নিয়েই বেশি কথা বলতো, এখন আমরা অনেকটাই ইংরেজিমুখী হয়ে গেছি।
চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, এরা দলের নাম ভাঙানো বর্ণচোরা। এদের শনাক্ত করে এই সংসদ থেকে আমরা শপথ নেই, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করবো। দখলবাজির কারণে বিভিন্ন জায়গায় ইন-ফাইটে অনেক মূল্যবান জীবন ঝরে গেছে, আমি তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
অনলাইন এবং অফলাইনে বিভিন্ন অপপ্রচারের বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে জড়িয়ে যারা অশ্লীলতা করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিচার চাননি, আমি বিচার চাইলাম। উনার মেয়ে মানে আমার মেয়ে। এই ইতর কারা, বের করে আনা হোক। নোংরা ধারা বন্ধ করা উচিত। অপরাধীকে খুঁজতে সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন তিনি। চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না। এরা নাম ভাঙানো বর্ণচোরা। আমরা শপথ নিই আমরা এদের নির্মুল করব।
নতুন ইতিহাস রচনা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ঐক্যের ডাক দেয়ার আগে দা-কুড়াল ফেলে দিন। আর ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকলে, নিজেরা ইতিহাস রচনা করতে পারবো না। যে অন্যের দোষের তালিকা করে, সে মহৎ হতে পারে না। যে নিজের দোষ খুঁজে পায়, সেই মহৎ। এছাড়া সংসদ অধিবেশন দেখতে শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেয়ায় সাধুবাদ জানান। পাশাপাশি ্সংসদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের এক মাসের সমপরিমানের ইনটেনসিভ দেয়ারও আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
-এজেড