ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১১ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

অনুষ্ঠানে আড়ম্বরপূর্ণ অপচয় পরিহারের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

অনুষ্ঠানে আড়ম্বরপূর্ণ অপচয় পরিহারের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

অনুষ্ঠানে আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনা ও অপচয় পরিহারের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, একটি ফুলের তোড়া বানাতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। আমি এ ধরনের অপচয় চাই না। এই টাকা দিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাদ্যযন্ত্র কেনা বা কোনো দুস্থ মানুষকে সাহায্য করা শ্রেয়।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘জনতা কালচারাল একাডেমি’র বার্ষিক পরীক্ষার সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আফরোজা বেগম শিমুর সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক এনামুল হক তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এম এ খায়ের, প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম ও সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল হক পাঠান।

অনুষ্ঠানে তাকে দেওয়া ফুলের তোড়ার প্রসঙ্গ টেনে ডেপুটি স্পিকার বলেন, একটি ফুলের তোড়া বানাতে দুই-তিন হাজার টাকা খরচ হয়। আমি কৃষকের সন্তান, গরিব ঘরের সন্তান ছিলাম। আমি এ ধরনের অপচয় চাই না। এই টাকা দিয়ে একাডেমির জন্য একটি তবলা বা বাদ্যযন্ত্র কেনা যেত, কিংবা কোনো দুস্থ মানুষকে সাহায্য করা যেত। এখন থেকে কোনো অনুষ্ঠানে ফুলের তোড়া বা তোরণ নির্মাণে অর্থ ব্যয় না করার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও আয়োজকদের প্রতি নির্দেশনা দেন তিনি। তবে একাডেমির শিশুদের দেওয়া হাতের তৈরি সাধারণ শুভেচ্ছা কার্ড বা ফুলকেই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার ওপর জোর দেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মায়েদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি নিজের জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলায় আমার মা রাতে ঘুমানোর আগে আমাকে কবিতা শোনাতেন। মায়েরা যদি শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দেশীয় সংস্কৃতি, ছড়া ও কবিতার সাথে পরিচয় করান, তবে সেই সন্তানরা বড় হয়ে বিপথগামী হবে না। শিশু সুমানুষ হলে তার পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হয়।” তিনি ভিনদেশি অপসংস্কৃতি পরিহার করে দেশীয় সংস্কৃতিকে লালন করার তাগিদ দেন।

জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট টেনে উপ-স্পিকার বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে বাংলাদেশ পেয়েছিলাম, তার উদ্দেশ্য শুধু একটি পতাকা বা পাসপোর্ট পাওয়া ছিল না। আমাদের পূর্বসূরিরা অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক মুক্তির জন্য দেশ স্বাধীন করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা তা থেকে পিছিয়ে ছিলাম। মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে আবারও সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন সময় এসেছে স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করার। আমার কাছে কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রিষ্টান বা কে হাজং- সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়। কে কোন দল বা মতের, সেটাও মুখ্য নয়। আমার কাছে বিবেচ্য হলো একজন মানুষের মেধা ও মনন। মেধা ও মননের ভিত্তিতেই সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবহেলিত কলমাকান্দাকে ‘মডেল কলমাকান্দা’ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

—এজেড