দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং হামের উপসর্গে আরো ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের প্রাদুর্ভাবে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭৩ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান: মোট মৃত্যু: ৯ জন শিশু (৩ জন হাম শনাক্ত হওয়ার পর এবং ৬ জন উপসর্গে)। মৃতদের অবস্থান: হামে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনই মারা গেছে ঢাকায়। উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে বরিশালে ২ জন, ঢাকায় ২ জন, রাজশাহীতে ১ জন এবং সিলেটে ১ জন। নতুন রোগী: ১ হাজার ২৭৬ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে সামগ্রিক চিত্র (১৫ মার্চ - ২৮ এপ্রিল): মোট মৃত্যু: ২৭৩ জন (হাম শনাক্ত হয়ে ৪৭ জন এবং উপসর্গে ২২৬ জন)। মোট আক্রান্ত (উপসর্গসহ): ৩৪ হাজার ৬৬২ জন। হাম শনাক্ত: ৪ হাজার ৮৫৬ জন। হাসপাতালে ভর্তি: ২৩ হাজার ৩৪৮ জন শিশু। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৯৯১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবারের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা। বিশেষ করে যারা টিকার ডোজ সম্পন্ন করেনি বা একটি ডোজও নেয়নি, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি। ইতোমধ্যে দেশের ৫৮টি জেলায় হামের বিস্তার ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি গণ-টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। আগামী ৩ মে থেকে দেশব্যাপী বড় পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের শরীরে জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।