ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১০ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়

সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা চলাকালে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের (কিশোরগঞ্জ-৪) বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন হট্টগোল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের কঠোর সমালোচনা এবং নিজের প্রতি করা ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ কক্ষ কয়েক দফা অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

বক্তব্যের শুরুতেই ফজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিরোধী দলের কিছু সদস্য তাঁকে ‘ফজা পাগলা’ বলে সম্বোধন করেন, যা অত্যন্ত আপত্তিকর। তিনি নিজের বয়স ও শারীরিক গঠন নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “উনার দলের লোকজন আমাকে ফজা পাগলা বলে। উনি আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট, আমি ৪৮ সালে জন্মেছি আর উনি ৫৮ সালে।” স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় হস্তক্ষেপ করে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং কেন তিনি অন্যের মন্তব্য নিজের গায়ে টেনে নিচ্ছেন তা জানতে চান।

ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতার রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের লোক হয়ে জামায়াতে ইসলামী করা ‘ডাবল অপরাধ’।” তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার ও প্রতিবাদ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার বারবার সংসদীয় বিধি বা ‘রুলস অফ প্রসিডিউর’ অনুসরণের তাগিদ দেন এবং বলেন, “এই আচরণে শিশুরাও লজ্জা পাবে। একে অপরের বক্তব্যের যুক্তি খণ্ডন করুন, কিন্তু হট্টগোল করবেন না।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি শোক প্রস্তাব জানানোর তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আল-বদরদের প্রতি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করলে ইতিহাসে ভুল বার্তা যাবে। এছাড়া, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশ হত্যা ও থানা লুটের ঘটনায় ইনডেমনিটি দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি একটি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। সিরাজউদ্দৌলা ও মোহাম্মদী বেগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “সিরাজউদ্দৌলা আর মোহাম্মদী বেগ কিন্তু এক না। মোহাম্মদী বেগ কিন্তু সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করেছিল।” তাঁর এই রূপকধর্মী মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভেতরের চক্রান্তের দিকে ইঙ্গিত করেন।

সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার সদস্যদের সতর্ক করেন এবং সংসদ বিধি মোতাবেক পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দিনের শেষে এই বিতর্ক সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

এসএফ